মোঃ আল আমিন , কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
গভীর সমুদ্র থেকে শিকার করা এক সময়ে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেয়া মাছ এখন প্রতি মৌসুমে দেড়'শ কোটি টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রজাতির এ মাছ গুলো এলাকায় "রাবিশ" মাছ হিসেবে পরিচিত। এ প্রজাতির মাছ গুলো সাধারণতঃ ছোট আকারের। এসব মাছ গুলোর মধ্যে চিংড়ি, কাকড়া,পোমা,ফাইলশা, তপসী, তুলার ডাডি মাছই বেশী।
এসব সামুদ্রিক মাছ এক সময় বিক্রির অনুপযোগী ছিল বলে সাগরেই ফেলে দেয়া হতো। বর্তমানে এলাকার দুই সহ্স্রাধিক মানুষ এসব মাছ সংগ্রহ, শুকানো, বস্তাবন্দি এবং ট্রাকে তুলে দেয়ার কাজে জড়িত রয়েছে। এদের মধ্যে ৫০/৬০ জন রয়েছে মালিক। যারা এ ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন। এতে শত শত বেকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। মূলত ১০ /১২ বছর আগে থেকে উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ায় এ ব্যবসা শুরু হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর,মহিপুর, কুয়াকাটা এবং চাপলী এলাকায় মানুষ এ ব্যবসার সাথে জড়িত। কার্তিক মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত এ ব্যবসায়ীদের প্রধান মৌসুম। এরা কাঁচা মাছ শুকনো করে ট্রাকযোগে সরবরাহ করেন ঢাকা,ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
প্রত্যেক মহাজনের অধিনে একজন সর্দার সহ ১৫/২০ জন শ্রমিক রয়েছে। যারা দৈনিক মজুরীতে কাজ করছেন। এদের কেউ কেউ মেঝেতে বিছানো মাছ বস্তায় তুলে দিচ্ছেন, কেউ বস্তাবন্দি করে পরিমাপ করছেন। আবার কেউ কেউ তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে।
এসব শ্রমিকরা প্রতিদিন গড়ে ৮/৯ ঘন্টা কাজ করে মুজরী পাচ্ছেন ৮০০ টাকা করে। অপরদিকে,সর্দার পাচ্ছেন ১ হাজার টাকা থেকে বার'শ টাকা। একেক জন মালিক প্রতিটি ট্রাকে ৫০ কেজির ২৫০ বস্তা করে সরবরাহ করছেন এ রাবিশ মাছ।
এগুলো সাধারনতঃ ঢাকা,ময়মনসিংহ জেলায় বেশী সরবরাহ করা হয়। সামুদ্রিক এ রাবিশ মাছ বিভিন্ন কোম্পানী প্রসেসিং করে হাঁস- মুরগী,মাছের খাদ্য হিসেবে বিক্রি করছেন।
যা মাছ কিংবা মুরগীর খামারীরা তাদের খামারে ব্যবহার করে ভিটামিনের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দ্রুত বড় হওয়ার সুফল পাচ্ছেন।
বর্তমানে রাবিশ মাছ বিক্রিতে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় দিন দিন এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। এ ব্যবসাটা কে এলাকার অভিজ্ঞমহল শিল্প হিসেবে দেখছেন।
এ ব্যাপারে আলীপুর মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাবেক সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, এ ব্যবসাটা এখন শিল্পে পরিনত হয়েছে। যে মাছ এক সময় খাবার অনুপযোগী ছিল, তা এখন কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো.গোলাম মোস্তফা জানান, এক সময় ফেলে দেয়া মাছ এখন কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের।
বারিশ এ মাছ ব্যবসার সাথে জড়িত মহিপুর এলাকার মো.শহিদ হাওলাদার জানান,মাছ সংগ্রহ, রোদে শুকানো, বস্তাবন্দি এবং ট্রাকে তুলে দেয়া নিয়ে এ এলাকার অন্ততঃ দুই সহস্রাধিক মানুষ জড়িত। তারা বছরের এ ৭/৮ মাসে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে মজুরী পাচ্ছে। এক সময় এ মানুষ গুলো বিভিন্ন স্থানে বেকার সময় কাটাতো।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো.মাসুম গাজী জানান, এখন ফেলানো হচ্ছে না মাছের আইসও। সবই কাজে লাগছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় যে মানুষ গুলো অলস সময় কাটাতো তারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী জেলা সাবেক মৎস্য কর্মকর্তা মো.কামরুল ইসলাম জানান, পটুয়াখালী জেলায় প্রতি বছর অন্ততপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার সামুদ্রিক এ মাছ বিক্রি হয়। বাইকাস এ মাছ ক্রাশ করে প্রধানত মাছের খাবারের পাশাপাশি মুরগীর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ মাছ গুলো সমুদ্রে মাছ শিকার করা জেলেরা এক সময় অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করে সাগরেই ফেলে দিতেন।