চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার, চোর গ্রেফতার তবুও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক কারাগারে

Date: 2022-10-26
news-banner


 
কাওছার আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার ও চুরির সাথে সম্পৃক্ত পেশাদার চোর ফাহিদ আহমদ গ্রেফতার হলেও জামিন মেলেনি চুরির অপবাদে নির্যাতনের শিকার এবং চুরির মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক কলিম উদ্দিনের।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গেলে আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক এই আদেশ দেন। 

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকরাম হোসেন।

মোবাইল চুরির অপবাদে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক কলিম উদ্দিনকে নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে মামলা করেন তার ভাই ছইদুর রহমান। উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ভাই রাজু আহমদের বিরুদ্ধে মামলায় এমন অভিযোগ করা হয়। 

অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠান। এর দুইদিন পর নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কলিম উদ্দিনকে মোবাইল চুরির অভিযোগে থানায় মামলা করেন ইউপি সদস্যের ভাই রাজু আহমদ।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহেদ আহমদ অভিযান চালিয়ে ২৩ অক্টোবর চুরি হওয়া মোবাইল ফোনসেটসহ পেশাদার চোর মো. ফাহিদ আহমদকে (২১) গ্রেফতার করেন। পরদিন ২৪ অক্টোবর ফাহিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ফাহিদ বর্ণি ইউনিয়নের সৎপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

আলাপকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহেদ আহমদ বলেন, প্রতিবন্ধী যুবককে মামলার বাদী ১৪ অক্টোবর থানায় ধরে নিয়ে আসেন। 

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনে হয়েছে সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একেক সময় একেক কথা বলেছে। পরে বাদী তাকে নিয়ে চলে যান। এরপর ১৬ অক্টোবর ঐ যুবকের পরিবার আদালতে নির্যাতনের মামলা করেন। ১৮ অক্টোবর রাজু আহমদ বাদী হয়ে থানায় ঐ যুবকের নামে চুরির মামলা করেন। আমাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রযুক্তির মাধ্যমে পেশাদার চোর ফাহিদ আহমদকে গ্রেফতার ও তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।

ফাহিদ ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করে কৌশলে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে। উদ্ধার করা মোবাইলটিও সে চুরি করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে চুরির কথা স্বীকারও করেছে।

এদিকে, চুরি হওয়া মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার মো. ফাহিদ আহমদকে আদালতে পাঠানোর প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহেদ আহমদ উল্লেখ করেন, ফাহিদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করেছে। সে আন্ত:জেলা মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। 

সে অত্র মামলার ঘটনার তারিখ ও সময়ে বাদীর ভাইয়ের কক্ষের দরজা খোলা পেয়ে কৌশলে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে জব্দ করা মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়া যায় মর্মে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Leave Your Comments