স্প্যানিশ ক্লাব FC Barcelona–এর লা লিগা শিরোপা উদ্যাপনের শোভাযাত্রায় ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়িয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তরুণ ফুটবল তারকা Lamine Yamal। তাঁর এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও গাজাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত সোমবার বার্সেলোনার ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদ্যাপনের সময় নিজের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান ইয়ামাল। শহরের রাজপথে প্রায় সাড়ে সাত লাখ সমর্থকের উপস্থিতিতে চলা এ উদ্যাপনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
ব্রিটিশ ক্রীড়া গণমাধ্যম The Athletic–কে ইয়ামালের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে তিনি বরাবরই সংবেদনশীল এবং নিজের বিশ্বাস প্রকাশে কখনো দ্বিধা করেননি।
এর আগেও মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ইয়ামাল। গত মার্চে স্পেন জাতীয় দলের একটি ম্যাচে দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের প্রতিবাদ জানান তিনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে রমজানে রোজা রেখে পেশাদার ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন এই তরুণ ফুটবলার।
তবে বৃহস্পতিবার ইয়ামালের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইয়ামাল ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে “ঘৃণা উসকে” দিচ্ছেন।
https://x.com/Palestine_fa/status/2054271870074020173/photo/1
কাৎজ তাঁর পোস্টে লেখেন, “লামিনে ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন, যখন আমাদের সেনারা হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে।”
যদিও ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো ছাড়া ইয়ামাল কীভাবে ঘৃণা ছড়িয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। একই সঙ্গে FC Barcelona–কে এ ঘটনায় নিজেদের দূরে রাখার আহ্বান জানান ইসরায়েলি মন্ত্রী।
এদিকে কাৎজের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোকে যারা ‘ঘৃণা উসকে দেওয়া’ মনে করে, তারা হয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে, নয়তো নিজেদের জঘন্য মানসিকতায় অন্ধ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “লামিনে কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতি প্রকাশ করেছেন, যা কোটি কোটি স্প্যানিশ নাগরিক মনে ধারণ করেন। তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার এটি আরও একটি কারণ।”
গাজাতেও ইয়ামালের এই পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ইয়ামালের একটি দেয়ালচিত্র এঁকেছেন ফিলিস্তিনি শিল্পী Ubay Al-Qurshali। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “তিনি ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়েও ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।”

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী মিশনও ইয়ামালের পতাকা ওড়ানোর ছবি নিজেদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছে। পাশাপাশি Palestine Football Association আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়ামাল ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেননি এবং তাঁর উদ্দেশ্য কোনো জনগোষ্ঠী বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছিল না। ক্লাবটি পুরো বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে বলেও জানানো হয়েছে।