বিশ্বকাপে নেইমার: শিশুর প্রার্থনা, বাবার খোলাচিঠি ও স্পষ্টবাদী আনচেলত্তি

Date: 2026-05-19
news-banner

ব্রাজিল ফুটবলে নেইমারকে ঘিরে আবারও তৈরি হয়েছে তীব্র আবেগ, বিতর্ক আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ। মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত—সবাই যেন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল তার বিশ্বকাপ দলে থাকা-না থাকা নিয়ে আবেগের গল্পে।

ছোট্ট বের্নার্দোর প্রার্থনা

ফোর্তালেজার ছোট্ট শিশু বের্নার্দো মাত্র তিন বছর বয়সেই নেইমারের জন্য গভীর টান অনুভব করেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের মতে, সে গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করেছে যেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমার সুযোগ পান। শিশুটির সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত তার সেই “আশা” পূরণ হয়েছে—ব্রাজিল কোচ Carlo Ancelotti ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নেইমার।

নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিলজুড়ে উচ্ছ্বাস

স্কোয়াড ঘোষণার পর ব্রাজিলজুড়ে শুরু হয় আনন্দের ঢেউ। কোথাও ভক্তরা টিভির সামনে জড়ো হন, কোথাও পানশালায় উদযাপন শুরু হয়।

পিয়াউই রাজ্যের রাজধানী তেরেসিনায় একটি পানশালা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল—নেইমার দলে থাকলে উপস্থিত সবাইকে বিনা মূল্যে দুই রাউন্ড বিয়ার দেওয়া হবে। স্কোয়াড ঘোষণার পর সেখানে শুরু হয় ব্যাপক উল্লাস।

চাপ আর প্রত্যাশার মাঝে নেইমার

গত ২০২৩ সালে মন্তেভিদিওতে শেষ ম্যাচ খেলার পর থেকে চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন Neymar। এবার ৩৪ বছর বয়সে এটি হতে যাচ্ছে তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ।

স্কোয়াড ঘোষণার পর নেইমারের বাবা সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন খোলাচিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ছেলের দীর্ঘ সংগ্রাম, চোটের যন্ত্রণা এবং মানসিক চাপের কথা তুলে ধরেন।

কোচ আনচেলত্তির ব্যাখ্যা

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, নেইমারকে দলে নেওয়া হয়েছে শুধু বদলি হিসেবে নয়, বরং তার দক্ষতার কারণে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, খেলানোর সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অনুশীলনের পারফরম্যান্সের ওপর।

তিনি বলেন, “নেইমার যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তবেই খেলবে। কেউই চাপ একা বহন করবে না।”

ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতি ও নেইমার

নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলের আবেগ নতুন কিছু নয়। রোমারিও বা ২০০২ বিশ্বকাপ সময়কার বিতর্কের মতোই এবারও দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল তাকে নিয়ে।

ভক্তদের একাংশের কাছে নেইমার শুধু একজন খেলোয়াড় নন—তিনি ব্রাজিলের ফুটবল পরিচয়ের প্রতীক।

শেষ সুযোগের বিশ্বকাপ?

বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন, আয়োজক দেশ United States, MexicoCanada। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ।

ব্রাজিল এখন তাকিয়ে আছে একটাই প্রশ্নে—এই শেষ সুযোগে কি নেইমার তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবেন?

Leave Your Comments