যুক্তরাষ্ট্রের California অঙ্গরাজ্যের San Diego শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত দুই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর বয়স ২০ বছরের নিচে এবং তাদের একজন নিজের বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার জোহরের নামাজের আগে Islamic Center of San Diego–এ গুলির এ ঘটনা ঘটে। এতে ইসলামিক সেন্টারের এক নিরাপত্তা প্রহরীসহ তিনজন নিহত হন। পরে সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীও মারা যায়। পুলিশ ধারণা করছে, তারা আত্মহত্যা করেছে।
সন্দেহভাজনদের বয়স ১৭ ও ১৯
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর এবং অন্যজনের বয়স ১৯ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনো তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান Scott Wahl সাংবাদিকদের বলেন, ১৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের মা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ছেলে নিখোঁজ এবং পরিবারের গাড়িটিও পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বাসা থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রও খোয়া গেছে।
তিনি বলেন, “বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা দেখে তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন, এটি শুধু আত্মহত্যার ঘটনা নয়। কারণ, আত্মহত্যাপ্রবণ কেউ একসঙ্গে তিনটি অস্ত্র বহন করে না।”
সুইসাইড নোট উদ্ধার
পুলিশপ্রধান আরও জানান, পরে ওই কিশোরের মা তাঁর ছেলের রেখে যাওয়া একটি চিরকুট বা সুইসাইড নোট খুঁজে পান এবং সেটির তথ্য পুলিশকে জানান।
তবে চিরকুটে কী লেখা ছিল, তা এখনই প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্কট ওয়াহল বলেন, “চিরকুটের বিষয়বস্তু তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।”
‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত
ঘটনাটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো Federal Bureau of Investigation। সংস্থাটি জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়ে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বরও চালু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় হতাহতদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তাদের নাম–পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হবে না।
শিশুদের সবাই নিরাপদ
সান ডিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টারটি সান ডিয়েগো কাউন্টির অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। সেখানে একটি ইসলামি বিদ্যালয়ও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের সবাই নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে।
ঘটনার পর Los Angeles এবং New York City–সহ বিভিন্ন শহরের মসজিদ ও উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।