চুক্তির আশা দেখছেন ট্রাম্প, ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত

Date: 2026-05-19
news-banner

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি তা স্থগিত করেছেন। যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তি এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার কাঠামো ইরান প্রত্যাখ্যান করায় মঙ্গলবার নতুন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে সেই হামলা স্থগিত করা হয়।

ট্রাম্প বলেন, “যদি সমঝোতা ব্যর্থ হয়, তাহলে এক মুহূর্তের নির্দেশেই হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে মার্কিন সেনাবাহিনী।”

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

‘ইরানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দেন তিনি।

গত রোববার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত এগোতে হবে। না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

এই বক্তব্যকে অনেকেই ইরানের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব পিছু হটতে প্রস্তুত।

ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian–সহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে আগামী কয়েক দিন অঞ্চলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave Your Comments