বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ভিসা না পেয়ে থানায় অভিযোগ (কে এই তরিকুল?)

Date: 2026-05-19
news-banner

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় হাজারো মানুষ যখন দালাল ও এজেন্সির দ্বারস্থ হচ্ছেন, তখন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। তেমনি  গ্রীক সাইপ্রাসে ওয়ার্ক ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর উত্তরা ভিত্তিক কথিত ভুয়া একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগকারী মোঃ খলিলুর রহমান জানান, তিনি গ্রীক সাইপ্রাসে চাকরির উদ্দেশ্যে উত্তরা সেক্টর-১১ এলাকায় অবস্থিত “ক্রোস বর্ডার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলর  পরিচয়ে ফারজানা আক্তার বৃষ্টি ও জান্নাতুল মাওয়া টুম্পা তাকে অল্প সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিটসহ ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো প্রক্রিয়ার জন্য তার সঙ্গে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। প্রথম ধাপে অগ্রিম হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নগদ নেওয়া হয় এবং তাকে জানানো হয়, তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ভিসা সম্পন্ন হবে। আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি তার পূর্বের চাকরিও ছেড়ে দেন। ফলে বেতন ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খাতে তার প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও ভিসা প্রদান না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি অফার লেটার দেওয়া হলেও সেটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দেয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পারেন—সংশ্লিষ্টরা আগামী জুন মাসের শুরুতেই অফিস গুটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে প্রতারণার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, শুধু একজন বা দু’জন নয়—প্রায় দুই হাজার মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, আবার অনেকের কাছ থেকে ১ থেকে ২ লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভুক্তভোগী। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশই ভিসা বা টাকা—কোনোটিই ফেরত পাননি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অফিসে গেলেই আজ-কাল বলে ঘুরানো হয়। দিনের পর দিন অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করেও মিলছে না কোনো সমাধান। অনেককে কান্নাকাটি করতেও দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির সামনে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা।

চুক্তিপত্রের বিভিন্ন শর্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অফার লেটার বা কোনো ডকুমেন্ট ইস্যু হওয়ার পর গ্রাহক কোনো টাকা ফেরত পাবেন না। এমনকি আবেদন মাঝপথে বাতিল করলেও অর্থ ফেরতের সুযোগ নেই। আবার ভিসা সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশ যেতে অসম্মতি জানালে আবেদনকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের একতরফা শর্ত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে টাকা প্রদানের রশিদ, চুক্তিপত্র এবং অফার লেটারের কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিদেশগামীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স, রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা ও বিএমইটি নিবন্ধন যাচাই করে আর্থিক লেনদেন করা উচিত।

দ্বিতীয় পর্বে থাকছে—
কে এই তরিকুল? “ক্রোস বর্ডার”-এর আড়ালে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেট, প্রতারণার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, ভুক্তভোগীদের বিস্ফোরক অভিযোগ এবং অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Leave Your Comments