কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী ফাহমিদার মৃত্যু দেড় মাসেও রহস্যাবৃত্ত, আদালতে মামলা

Date: 2022-10-27
news-banner



কাওছার আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় দেড় মাস আগে বসতবাড়ির পাশের ডোবা থেকে স্কুল ছাত্রী দিলরুবা জান্নাত ফাহমিদা (১১) নামে স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি এখনো রহস্যাবৃত্ত রয়ে গেছে। 

এদিকে ওই ছাত্রীর পরিবারের সন্দেহের তীর একই এলাকার পাশ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু বক্কর শাহাজান (২৫) এবং তাঁর পরিবারের লোকজনের দিকে।

ফাহমিদা উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের কাজিরগাঁও গ্রামের আকমল মিয়ার ছোট মেয়ে এবং স্থানীয় রাউৎগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফাহমিদার মা ছইফা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কালামের ছেলে শাহাজানকে প্রধান অভিযুক্ত করে আদালতে একটি হত্যা মামলা (নং-৪৫৯/২২) দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- আবু বক্কর শাহাজানের মাতা রাবিয়া বেগম (৪৮), শাহাজানের ভগ্নিপতি ও ওই এলাকার বাসিন্দার আব্দুল ওদুদ (৩০), শাহাজানের চাচি সেলিনা বেগম (৩৫) ও চাচাতো বোন শারমিন বেগম (২৬)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

আদালতে দায়ের করা এজাহার ও সরেজমিনে গিয়ে ফাহমিদার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন ফাহমিদা তার বড় বোন মাহবুবা জান্নাত নাঈমাসহ সকাল ৮টায় পাশের বাড়ির বাসিন্দা আবু বক্কর শাহাজানের দোকানে চিনি আনতে যায়। এসময় নাঈমার কাছে চিনি দিয়ে ফাহমিদাকে শাহাজান তাঁর মায়ের সাথে দরকারের অজুহাত দেখিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘন্টা পর ফাহমিদা বাড়িতে না ফেরায় শাহাজানের বাড়িতে গিয়ে তাকে (ফাহমিদাকে) পাওয়া যায়নি। ফাহমিদার বিষয়টি জানতে চাইলে শাহাজানের কর্থবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। এ সময় শাহাজানের শরীর ভেজা ও কাঁদা লাগানো ছিলো। পরে ফাহমিদার বাবা আকমল মিয়া ও মা ছইফাসহ পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় কাঁদার মধ্যে তার (ফাহমিদার) মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

এদিকে ফাহমিদার মরদেহ উদ্ধারের খবরে শাহাজান ও তাঁর মা রাবিয়া বেগম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরদিন তাদের স্বজন আব্দুল ওদুদ, সেলিনা বেগম ও শারমিন বেগম গা ঢাকা দেন। সবার অজান্তে তারা গা ঢাকা দিলে লোকজন ও ফাহমিদার পরিবারের সন্দেহ বাড়ে শাহাজান এবং তাঁর পরিবারের প্রতি।

ছইফা বেগম জানান, ‘ঘটনার দিন সকালে আমার বড় মেয়ে নাঈমা ও ফাহমিদা চিনি কিনে আনতে শাহাজানের দোকানে যায়। সেখান থেকে নাঈমা একা বাড়ি ফিরে আমাকে জানায় শাহাজান তাঁর মায়ের কথা বলে ফাহমিদাকে বাড়িতে নিয়ে গেছে। ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে আমার ছোট মেয়ে না ফেরায় শাহাজানের বাড়িতে খোঁজ নিতে যাই। তখন শাহাজান ও তার মা রাবিয়া বেগমের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন। আমরা খোজাখুঁজির পর বাড়ির পাশে ডোবাতে কাঁদার মধ্যে আমার মেয়ের লাশ দেখতে পাই। খবরটি জানাজানি হলে শাহাজান ও তার মা রাবিয়া বেগম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরদিন তার ভগ্নিপতি ওদুদ, চাচি সেলিনা ও চাচাতো বোন শারমিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ছইফা বেগম আরো বলেন, শাহাজান আমার বড় মেয়ে নাঈমার সাথে প্রায়ই অশালীন কথাবার্তা বলতো। ঘটনার দিন তাঁর দোকানে গেলে সে নাঈমার সাথে অশালীন আচরণ করে। তখন আমার ছোট মেয়ে ফাহমিদা বিষয়টি বাড়িতে বলে দিবে জানায় তাকে। এ কারণেই আমার মেয়েকে শাহাজান মায়ের সাথে দেখা করার অজুহাত দিয়ে বাড়িতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তার পরিবারের লোকজন এ ঘটনার সাথে জড়িত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু ও স্থানীয় গ্রাম্য সর্দার আব্দুল কাদির জানান, ঘটনার পরপরই শাহাজান তাঁর মা রাবিয়া বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। পরদিন তাঁর বোন জামাই ও চাচির পরিবারও বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এতে এলাকার লোকজনেরও সন্দেহ ফাহমিদা হত্যায় তারা হয়তো জড়িত।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আদালতে ফাহমিদার পরবিারের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে আমরা জেনেছি। তখন ফাহমিদার পরিবার কোন অভিযোগ না দেওয়ায় থানায় অপমৃত্যু মামলা নং-০২/১৮ দায়ের করা হয়। ওই সময় ফাহমিদার মা ময়নাতদন্তেও রাজি ছিলেননা। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠাই। বর্তমানে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। 

তদন্ত অফিসার আরো বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহাজান ওতার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে। তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। শাহাজানদের পাওয়া গেলে আত্মগোপনের বিষয়টিও জানা যাবে।

Leave Your Comments