ফেসবুক আবেগঘন পোস্টের পর তরুণ সাংবাদিককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার, পরে মৃত্যু

Date: 2026-05-31
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাংবাদিক মো. রাকিব হোসাইন (২৮) ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন। তিনি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রোববার (৩১ মে) ভোরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাকিব হোসাইনের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায়। তাঁর বাবা মো. মোক্তার হোসেন মেলকার। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নানাবাড়ি দশমিনায় বসবাস করতেন। তাঁর মামা শওকত হোসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সাংবাদিকতা জীবনের শুরুতে তিনি দৈনিক যুগান্তরে কাজ করেন। পরে দৈনিক যায়যায়দিনের দশমিনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর চারটার দিকে রাকিব তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি দেখে পরিচিতজনেরা উপজেলা সদরের মানিক মিয়া চত্বরে তাঁর ভাড়া বাসায় ছুটে যান। পরে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে সকাল পাঁচটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাকিব মানিক মিয়া চত্বরের ওই বাসায় একাই থাকতেন। তিনি বাবা, দুই বোন ও এক ভাই রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দশমিনা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতি এবং বাউফল প্রেসক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে দশমিনা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ রাঙাবালীর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্বজন দাবি করেছেন, ঘরে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যে ব্যবহৃত একটি ওষুধ সেবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের আবেদন করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।”

ফেসবুকে দেওয়া শেষ স্ট্যাটাসে রাকিব লিখেছিলেন, “আসসালামু আলাইকুম। একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে? যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত।” স্ট্যাটাসে তিনি মায়ের পাশে দাফনের ইচ্ছা, পরিবারের কয়েক সদস্যের প্রতি ক্ষোভ এবং পরিচিত কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “দুনিয়ার মায়া মানুষ কখন ছাড়ে, কেউ কি বলতে পারেন?”

Leave Your Comments