অবরুদ্ধ ১২০০ কোটি ডলার ফেরতের কথা প্রস্তাবিত চুক্তিতে রয়েছে: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির দাবি

Date: 2026-05-31
news-banner

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ইরানের অবরুদ্ধ ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারকের একটি ‘অনানুষ্ঠানিক’ খসড়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে তার অবরুদ্ধ সম্পদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে ইরান এসব অর্থ নিজের পছন্দমতো ব্যাংকে স্থানান্তর ও ব্যয় করতে পারবে।

তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একই ধরনের একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউস ‘বানোয়াট’ বলে মন্তব্য করেছিল। অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিবরণ দিয়েছেন, তার বেশ কিছু অংশও ইরানি সূত্র প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের আদান-প্রদান হবে না।” তাঁর এই বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে এএফপিকে দেওয়া এক সূত্র জানায়, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন। অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি সেখানে যান এবং চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালির পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্ভাব্য সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

Leave Your Comments