মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যা মামলার রহস্য প্রায় ১১ মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার বড়খারচর এলাকার শহীদ মিয়া (৪৮) ও তার স্ত্রী হুসনা খাতুন (৪৫)।
পিবিআই সাংবাদিকদের জানায়, ২০২৫ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন বিকেলে বড়খারচর মধ্যপাড়া এলাকার একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। তদন্তে উঠে আসে, নিহত জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হুসনা খড় আনতে গেলে নিকটবর্তী একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেতে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে হুসনার স্বামী শহীদ মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শহীদ মিয়া ছুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাঙ্গীরকে দেখতে পান। পরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তিনি জাহাঙ্গীর মিয়ার পিঠ ও পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বেঁধে ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তারা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।