এস আই খান
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ইসলামী ফাউন্ডেশন এর নরসিংদী জেলার উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিডি) আবুল কাশেম স্যারের নির্দেশে ফিল্ড অফিসার মাহফুজুর রহমান, সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরী ও সাধারণ কেয়ারটেকার আবু হানিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম, যাকাতের টাকা আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭/১০/২০২২ইং তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বেলাব উপজেলা শাখার ভূক্তভোগী একজন ইমাম মোঃ সামছুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে মোঃ সামছুল ইসলাম বলেন, নরসিংদী জেলার উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিডি) আবুল কাশেম স্যারের নির্দেশে ফিল্ড অফিসার মাহফুজুর রহমান, সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরী ও সাধারণ কেয়ারটেকার আবু হানিফ বেলাব উপজেলার সকল কেন্দ্র শিক্ষকের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ২০০০ টাকা করে যাকাতের টাকা উত্তোলন করেন। তাছাড়াও উপজেলার ভিআইপি, সিআইপি ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে যাকাতের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বেলাব উপজেলার ১৪৯ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রতি শিক্ষক, শিক্ষিকা, ইমাম ও মোয়াজ্জেম এর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ও বাহির থেকে ২ লক্ষ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বেলাব উপজেলার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা আদায়কৃত টাকার হিসাব চাইলে গত ১৫ই আগষ্ট উপলক্ষ্যে ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার জমার হিসাব দেয়। কিন্তু বাকী টাকার হিসাব চাইলেই বিভিন্ন অযুহাত দেখাতে শুরু করেন।
গত জুন/জুলাই মাসে কেন্দ্র শিক্ষক, ইমাম ও মোয়াজ্জেম নিয়োগের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার করে টাকা করে নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেন। টাকা না দিলে নিয়োগ বাতিল করে দিবে বলে ভয় দেখিয়ে ডিডি স্যারের নির্দেশে ফিল্ড অফিসার, সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরী ও সাধারণ কেয়ারটেকার আবু হানিফের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্তদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়।
তাছাড়াও সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরীর চারিত্রিকগত ত্রুটিও রয়েছে। মহিলা শিক্ষকদের মোবাইল, ম্যাসেঞ্জার ও ইমুর মাধ্যমে বিভিন্ন নারী শিক্ষকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া অনেক শিক্ষকের নাম আছে কিন্তু কেন্দ্র নাই তাদের টাকা ব্যাংক একাউন্ডে জমা হবার সাথে সাথে সুপারভাইজার ও সাধারণ কেয়ারটেকার অর্ধেক নিয়ে নেয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরী ৮ বছর আগে বেলাব উপজেলার সুপারভাইজার থাকাকালীন নিলুক্ষিয়া গ্রামের কাকুলী, চর লক্ষীপুর মধ্যপাড়ার সাফি উদ্দিন, চর বেলাবরের কামাল হোসেন, বেলাব টেকপাড়ার জামাল, বেলাব মাটিয়াল পাড়ার মোবারক হোসেনসহ সররাবাদ, নারায়নপুর, আমলাব, চর উজিলাব, বিন্নাবাইদ, বাজনাব থেকে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কেন্দ্র দেবার কথা বলে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আদায় করে। পরে টাকা নিয়ে কেন্দ্র না দেওয়ায় তারা উপজেলা এসে তাকে খোজ করলে খবর পেয়ে উপজেলা থেকে পালিয়ে যায়। ঐসময় এক মহিলার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেন্দ্র দিতে না পারায় সে মহিলা জুতাপিটা করতে আসে। সেই ৮ বছর পর এসে আবার পূর্বের মত কর্মকান্ড শুরু করেন। এছাড়া ২০২২ইং সালের আগস্ট মাসে পদ্মাভ্রমনের নাম করে উপজেলার প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ৩৫০০টাকা করে আদায়।
এছাড়া কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গেলে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ইমাম, মোয়াজ্জেমদেরকে মটরসাইকেলের জ¦ালানী খরচবাবদ সর্বনি¤œ ৫০০-১০০০টাকা করে দিতে হয়। জ¦ালানী খরচ না দিলে শুকচ নোটিশের ভয় দেখায়। তাই সকল শিক্ষকদের বাধ্য হয়েই তাদের এই অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়। তাছাড়া কেয়ারটেকার আবু হানিফ প্রতি বছর বই বিতরণের সময় প্রতি শিক্ষক শিক্ষিকার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করে।
সাধারন কেয়ারটেকার আবু হানিফের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বেলাব উপজেলা সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ নুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করার পরও ফোন ধরে নি।
ফিল্ড অফিসার মাহফুজুর রহমান সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে তারা কোনোভাবেই জড়িত নয়।
নরসিংদীর উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিডি) আবুর কাশেম সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে যাকাতের টাকা উত্তোলন করা হয়নি। তাছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে দিনি ধারণা করছেন একটি মহল ইসলামিক ফাউন্ডেশন নরসিংদী জেলা শাখার বিরুদ্ধে এরকম ভ্রান্ত অভিযোগ করে বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আবুল কাশেম আরও বলেন অভিযোগকারী মোঃ সাছুল ইসলাম একাধিক বিয়ে করেন। তার স্ত্রী তার বেতন বন্ধ রাখার জন্য নরসিংদী জেলা শাখায় লিখিত অভিযোগ করেন।