অভয়নগরে সবুজ মাঠে সোনালী স্বপ্নঃ ফুটবে হাসি কৃষকের

Date: 2022-10-31
news-banner


আমিনুর রহমান, অভয়নগর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ  কৃষিপ্রধান দেশ। আশ্বিন- কার্তিক মাস আমন ফসল চাষের সময়।অভয়নগরের যেদিকে তাকায় সেদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।মাঠে আমন ধানের সবুজের সমারোহ।বাতাসে সবুজের ঢেউ দোলানো দৃশ্য আর সাথে আছে মৌ মৌ সুঘ্রাণ কার না ভালো লাগে।বড়ই মনোহর সেই দৃশ্য।মাঠে আমন ধানের ফসলে ভরপুর।এবছর বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা।প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত না হলেও মাঝে মাঝে বৃষ্টি  হয়েছিল।পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেককে সেচ দিতে  দেখা গেছে।ধানে পোকামাকড়ের  আক্রমণও দেখা গেছে বেশ। মাজরা পোকা,পামরী পোকা,বাদামী ফড়িং, গোড়াপচা রোগসহ নানাবিধ রোগ বালাই আক্রান্ত হয়।কৃষকেরা বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে অনেকাংশেই ফসলের রোগ বালাই ঠিক রাখতে পেরেছে।যদিও কীটনাশক ও সারের দাম সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের থেকেও খাতাপত্র ঠিক রেখে  ডিলাররা বেশি নিয়েছে।এবারের ফসলে খরচ একটু বেশিই হয়েছে কৃষকদের।তারপরেও ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে বৃষ্টি  হওয়ায় আমন ধানের বেশ উপকার হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।এবছর অভয়নগর জুড়ে মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলে ছেয়ে আছে।সামনে যদি আর কোনাে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রোগবালাই পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয় তবে সোনার ফসলে মাঠ ভরে যাবে।কৃষান - কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটবে। নবান্নের উৎসবে মেতে উঠবে প্রতিটা কৃষকের বাড়ি।
অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক বাবলুর রহমান বলেন, এবছর বৃষ্টি দেরীতে এবং কম হওয়ায়  বীজতলা তৈরী করতে এবং ধান রোপনে দেরী হয়েছে। ঠিকমত বর্ষা না হওয়ায় সেচ দিতে হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়েছে।সারের দাম আগের তুলনায় বেশী।ফলে খরচ একটু বেশী হয়েছে।তারপরেও ফসল ভাল হয়েছে।সামনে যদি কোনো দুর্যোগ না হয় তবে ভাল ফলন পাব বলে আশা রাখি।তাছাড়া সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় ভাল টাকা পাব।খরচ বাদে লাভ হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,এবছর অভয়নগরে আমন চাষে ৭ হাজার ৫ শত ৩৫ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা ছিল।চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৪ শত ৯৫ হেক্টর জমিতে।ধানের সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগবালাই হচ্ছে মাজরা পোকা,বাদামী ফড়িং এবং গোড়াপচা রোগ।তবে এ রোগগুলো এবার কম হওয়ায় ফসল বেশ ভাল হবে বলে আশা করে।ইতোমধ্যে আগামজাতের  আমনধান ব্রি ৭৫, ব্রি,৮৭, ব্রি ৩২,ব্রি ৪৯ সহ বেশ কয়েকটি জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করেছে।কৃষকদের ধান ভানতে কাটতে ও মাড়াই করতে দেখা গেছে।আবহাওয়া ভাল থাকলে কৃষকরা হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারবে। 

Leave Your Comments