নালিতাবাড়ীর সিমান্তে ভারতীয় হাতির তান্ডবে আমন ধানের ব‍্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Date: 2022-10-31
news-banner



আল আমীন 
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি 

সংবাদিক বাই সরকাররে কইয়েন অন্না আত্তিগুলা আমগো ধান খাইয়া শেষ কইরা দিলো। পাহা ধান লয়া চিন্তাত আছি, কাটতে পারুম কিনা বুজতাছিনা। রাইত দিন পহর পাইরা আত্তি খেদাই।
ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বউ পোলাপাইন নিয়া না খাইয়া থাহন লাগবো।
এভাবেই কষ্টের কথা গুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় বন্যহাতির অত‍্যাচারে অতিষ্ঠ অসহায় কৃষক আব্দুর রহিম (৫০)। তিনি উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও গারো পাহাড়ের সাতপাকের ঘোপে ১ একর ২ কাঠা জমিতে দেশীয় আগাম জাতের আমন ধান লাগিয়েছেন। পাকা ধান নিয়ে তিনি চিন্তিত এই বুঝি বন্যহাতির দল তান্ডব চালিয়ে সোনালী ফসল খেয়ে শেষ করলো। 
আব্দুর রহিম জানায়, চলতি আমন মৌসুমে তার পাহাড়ি ঘোপে ক্ষেত লাগানোর পর থেকেই পিতা-পুত্র মিলে হাতির তান্ডব থেকে ফসল বাঁচাতে দিন-রাত জীবন বাজি রেখে পাহাড়া দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তার ধান ক্ষেতে বন্যহাতি ৩ বার তান্ডব চালিয়েছে। ফসল কাটার আগমুহুর্তে বেড়েছে বন্যহাতির তান্ডব। দৈনিক পাকা ধান খেতে আসছে প্রায় ৪০/৫০টি ভারতীয় বন্যহাতির পাল। গ্রামবাসীরা পাকাধান রক্ষায় ডাকচিৎকার, হৈ-হুল্লোর করে ও মশাল জ্বালিয়ে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হাতির তান্ডবে ফসল ঘরে তুলতে না পারলে পরিবারে খাদ্য যোগাবেন কিভাবে এই দুশ্চিন্তায় আছেন এলাকার কৃষকরা। পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ও স্থানীয় কৃষক কামাল মিয়া, আসকর আলী, আব্দুস সাত্তার, হালিম মিয়া, উপজাতী
 বর্গাচাষী জস্টিন সাংমা, সুচনা মারাক ও প্রমিলা সাংমা জানান, তারা দুইযুগ ধরে ভারতীয় বন্যহাতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কোন রকমে টিকে আছেন। প্রায়ই বন্যহাতির দল আক্রমণ করে তাদের জানমালের ক্ষতি করছে।  অনেকে আহত নিহত হয়েছে। এখন তারা টং ঘর তৈরি করে  ফসল পাহাড়া দিচ্ছেন।  প্রায় প্রতিদিন হাতি আর মানুষের চিৎকারে প্রকম্পিত নালিতাবাড়ীর পাহাড়ী এলাকা।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) রাতে আন্ধারুপাড়া ও ডালুকোনা গ্রামের লুইস নেংমিনজার ১ একর, জালাল মিয়ার ৪০ শতাংশ ও অজিত সাংমার ৪০ শতাংশ জমির ধান খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করেছে বন্যহাতির দল। 
সুত্র জানায়, উপজেলার ভারত সীমান্ত পাহাড়ি এলাকার
 রামচন্দুকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা, তাড়ানি, মায়াঘাসি, কালাকুমা, নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও, দাওধারা, কাটাবাড়ি, ডালুকোনা, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া, খলচান্দা, বুরুঙ্গা, কালাপানি, বাতকুচি ও সমশ্চুড়া পাহাড়ি এলাকায় রোপিত প্রায় ৮০০ শ একর জমির আমন ধান প্রায় পেকে এসেছে। আবার কোথাও ধানকাটা শুরু হয়েছে। দুই যুগধরে বন্যহাতি তান্ডব চালিয়ে এসব এলাকার মানুষের ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে আসলেও সরকারীভাবে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি সরকারের বন বিভাগ থেকে বন্যহাতি দ্বারা নিহত পরিবারকে  ৩ লাখ টাকা, আহতকে ১ লাখ টাকা ও ফসলের ক্ষতিহলে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপুরণ দেয়া হচ্ছে। 
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জকর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যহাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে সরকারীভাবে ক্ষতিপুরন দেয়া হবে। এনিয়ে আমরা সব সময় সর্তক রয়েছি। এছাড়া জানমাল রক্ষায় এলাকাবাসীকে সচেতন করছি। 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির দেশবাংলাকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি বাড়ি-ঘর ও ফসলের মাঠে তান্ডব চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের নানা প্রনোদনা ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। হাতি আক্রান্ত এলাকায় আমরা খোঁজখবর রাখছি ও ফসল রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

Leave Your Comments