আব্দুল্লাহ আল মামুন: রাজধানীর মিরপুর ও রূপনগরে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, বাংলাদেশ কোর্ট ফি ও নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। র্যাবের অভিযানে এই অবৈধ কারখানার মালিকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সেখান থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন জাল স্ট্যাম্প ও প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের বরাত দিয়ে এক বিশেষ পেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘বার্তা বিচিত্রা’কে জানানো হয় যে, র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত রবি ও সোমবার (৩০ ও ৩১ অক্টোবর) দুইদিন টানা অভিযানে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানী ঢাকার রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিং ও মিরপুর-২ এলাকা থেকে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, জাল বাংলাদেশ কোর্ট ফি ও নন জুডিশিয়াল জাল স্ট্যাম্প তৈরির সক্রিয় সদস্য মো. মোতাহার মিয়া (২৬), মো. মিকাইল মিয়া (২০) ও মোছা. আম্বিয়া পারভেজ লুপাকে (২০) আটক করে। এ সময় তাদের দখল হতে ৫০০ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ২৫৫৫০০ পিস, ২০০ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ১৮০০০০ পিস, ১০০ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ৩৬৯০০০০ পিস, ৫০ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ৪১৮০০০ পিস, ১০ টাকার জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ২০৪০০০০ পিস, ১০ টাকার জাল ডাক টিকিট ২২৬০০০ পিস, ১০০ টাকার নন জুডিশিয়াল ১৭০০০০০ পিস, ২০ টাকার জাল কোর্ট ফি ৩৬৮০০০ পিস, ১০ টাকার জাল কোর্ট ফি ৮৮০০ পিস উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নন জুডিশিয়াল জাল স্ট্যাম্প/ রেভিনিউ স্ট্যাম্প তৈরির মেশিন ২ টি, ১ টি সিপিইউ, ১ টি মনিটর, ১ টি প্রিন্টার, কী-বোর্ড, মাউস, পাওয়ার ক্যাবল, ডাটা ক্যাবল, ক্যামিকেলসহ জারিকেন, বিভিন্ন প্রকার টিনের ডাইস, ২ হাজার পাতা স্ট্যাম্প তৈরির কাগজসহ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্প তৈরির সরঞ্জামাদি ও নগদ ১ লক্ষ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, জাল বাংলাদেশ কোর্ট ফি ও নন জুডিশিয়াল জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত ও সরবরাহকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা প্রায় ছয় মাসের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ সরকারের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের মুদ্রণযোগ্য বিভিন্ন সরকারি রেভিনিউ স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প প্রস্তুত করে দেশের বিভিন্ন অসাধু রেভিনিউ স্ট্যাম্প, বাংলাদেশ কোর্ট ফি ও নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নিকট সরবরাহ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।