নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার শামীম পাটালীকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, র্যাব-২ এর প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থাপিত তথ্য, ঘটনার বাস্তবতা এবং আদালতের নথিতে থাকা বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শামীমকে একটি মিথ্যা অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শামীম কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সহযোগিতা করতেন। সেই সূত্রেই র্যাব-২-এর সার্জেন্ট জুবায়েরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ২৭ জুন সার্জেন্ট জুবায়ের ফোন করে শামীমকে গ্রীনসিটি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নেন। সেখানে নাস্তা করার পর তাকে আটকে রাখা হয় এবং পরে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, দাবি করা অর্থ না পাওয়ায় গভীর রাতে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়ে শামীমকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং জব্দ করা মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কল রেকর্ড মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা কয়েকটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো—
২৭ জুনের কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) ও টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ।
গ্রীনসিটি এলাকার রেস্টুরেন্ট ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার ও পর্যালোচনা।
জব্দকৃত মোবাইল ফোনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা।
জব্দ তালিকা ও আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ।
শামীমের বিরুদ্ধে উল্লেখিত মামলাগুলোর আদালতের নথি যাচাই।
পরিবারের দাবি, র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে শামীমকে ‘পাটালী গ্রুপের’ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অতীতে একই পরিবারের সদস্যরা ওই গ্রুপের হামলার শিকার হয়েছেন। তাই হামলার শিকার একটি পরিবারের সদস্য কীভাবে একই গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থাপিত হলেন—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তারা পাননি বলে দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, এই অসঙ্গতিগুলো পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে শামীমের বিরুদ্ধে আটটি মামলা থাকার যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে পরিবার।
শামীমের মা বলেন,“আমাদের ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তাকে টার্গেট করে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে দেওয়া অনেক তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তার নামে ৮টি মামলা থাকার দাবিও সঠিক নয়।”
পরিবারের আরও অভিযোগ, বোটঘাট এলাকার র্যাবের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং সার্জেন্ট জুবায়ের ও সার্জেন্ট জাকিরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শামীমের মা আরো জানিয়েছে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে তাদের কাছে থাকা কল রেকর্ড, নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় অথবা উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। তাদের বক্তব্য, তদন্তে যদি র্যাবের উপস্থাপিত তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তারা তা মেনে নেবেন। অন্যদিকে, যদি কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে র্যাবের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।