বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
সরকারি চাল আত্মসাৎ, অনৈতিকভাবে উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘ সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনমূলে দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে নতুন চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দিওড় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়নের ৯ ইউপি সদস্য। ইউপি সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লেখা, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছাড়াই স্থায়ী কমিটির সভা করা, প্রকল্প কমিটির সভা ও এলজিএসপি সভাসহ অন্যান্য সভা আহব্বান না করা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার সুপারিশের ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভিজিএফের ৫০ বস্তা এবং ভিজিডির ৭ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে রক্ষিত করা, ভিজিএফের চাল বিতরণের বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সদস্যদের অবহিত না করা এবং কর বাবদ আদায় করা ৩৩ হাজার ৩৭৭ টাকা নিজের কাছে রাখার অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব করেছেন। সরেজমিন তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, উক্ত অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯–এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান মণ্ডল বিশেষ সভা আহ্বান করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট গ্রহণ করেন। এতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ৯টি ভোট পড়ে, যা দুই–তৃতীয়াংশের বেশি। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় এবং বিশেষ সভায় অনাস্থা প্রস্তাবটি দুই–তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে গৃহীত হওয়ায়, বর্ণিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না মর্মে বিবেচিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক দিনাজপুরের কাছে পাঠানো অনাস্থা প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯–এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে। সেহেতু স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯–এর ৩৯ (১৩) ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে অনাস্থা প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার পদটি একই আইনের ৩৫(১)(চ) ধারা অনুযায়ী শূন্য ঘোষণা করা হলো।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য কর্তৃক আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি ঢাকায় এসেছি। মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করব।