হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধও অনেক সময় স্থানীয় সালিশের নামে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অপরাধের বিচার আদালতের পরিবর্তে সালিশে মীমাংসার এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হত্যার ঘটনায় কোনো সালিশি সমাধান চলবে না। এসব ঘটনায় বিচার হবে আদালতে। সালিশের নামে একটি পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অপরাধ আড়াল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
শুক্রবার ৬ নভেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমপি শ্যামল বলেন, কেউ আমার কাছে এলেও হত্যার ঘটনা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের প্রশ্রয় দেইনা। হত্যার বিচার আদালতেই হতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কারণ, কিছু সর্দার এসব ঘটনা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার নামে উভয়পক্ষ থেকে টাকা খায়।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশ দিয়ে সমাজের সব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রত্যেক এলাকায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের সচেতন ও জাগ্রত করার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, একজন অপরাধী শুধু একজন মানুষকে আহত করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে বিপর্যস্ত করে দেয়। যে পরিবারে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই পরিবারেই নারী নির্যাতনের শিকার হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্যাতিত নারীকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, থানায় এসে কোনো নারী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য থানাগুলোতে নারীদের জন্য পৃথক ডেস্ক চালু করা হয়েছে। যৌতুকের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আট নারীর প্রাণহানির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং এ অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ) মোঃ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন এবং সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি।
এ সময় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য, সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।