মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ২৫ কেজির পরিবর্তে কয়েকজন জেলেকে ২২ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা। এ বিষয়ে জানতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন মাই টিভির শিবালয় প্রতিনিধি লিটন আহম্মেদ ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের শিবালয় প্রতিনিধি ইমরান নাজির।
সাংবাদিক লিটন আহম্মেদ জানান, কয়েকজন জেলে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়ার অভিযোগ করলে তাঁরা তথ্য সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে কয়েকজনের চাল ওজন করে ২২ কেজি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান তাঁদের কাছে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখতে চান। পরে উপস্থিত ইউপি সদস্য ও কর্মচারীদের দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উপকারভোগী আলোকদিয়া গ্রামের ইউনুছ আলী মোল্লা ও গান্ধাইর গ্রামের শামিন হালদারও ২৫ কেজির পরিবর্তে ২২ কেজি চাল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, চাল কম পাওয়ার বিষয়টি বিতরণকারীদের জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি।
তবে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো জেলে কম চাল পেয়ে থাকলে তাঁকে ডেকে বাকি চাল দেওয়া হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, তেওতা ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬০০ জেলের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ট্যাগ কর্মকর্তা বিশেষ কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা উচিত। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার বলেন, চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।