ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সংযোগের গতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। এতে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জামের স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের গতি সীমিত করা হয়। এর ফলে দেশটির কিছু আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট সেবা যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে এর সংযোগে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি কিয়েভের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ইলন মাস্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংকের সংযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন ইস্যুতে মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনা চলছে। তবে স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ওপর এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে স্পেসএক্সের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।