ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলে ফেরার স্বপ্ন এখনো ছাড়েননি অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। একের পর এক চোট এবং সাম্প্রতিক সময়ে দলে জায়গা না পাওয়ার কারণে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নিজের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই ক্রিকেটার। ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও নির্বাচকদের নজর কাড়তে চান তিনি।

নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দলেও জায়গা হয়নি শামির। এর আগে সার্ভিসেসের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে বাংলার দল থেকেও বাদ পড়েন তিনি। তবে এসব সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে লক্ষ্য থেকে সরে যেতে রাজি নন ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামি জানান, পেশাগত জীবনে আশা ধরে রাখা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা জরুরি। তার ভাষ্য, যেকোনো কাজেই একটি লক্ষ্য থাকা উচিত। রঞ্জি ট্রফিতে খেললেও রাজ্যের হয়ে শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হয়। জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যও তার রয়েছে বলে জানান তিনি।

রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার দলে জায়গা না পাওয়ার বিষয়ে শামির দাবি, সিদ্ধান্তটির পেছনে ফিটনেসের সমস্যা ছিল না। তার মতে, সংশ্লিষ্ট ম্যাচের উইকেট স্পিনারদের জন্য বেশি সহায়ক হওয়ায় তাকে একাদশে রাখা হয়নি। নিজের বর্তমান প্রস্তুতি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান, নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শামির অর্জনও উল্লেখযোগ্য। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৯৭ ম্যাচে তার উইকেটসংখ্যা ৪৬২। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই আসরে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন এই পেসার। ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের হয়ে সর্বশেষ খেলেন শামি। সেই প্রতিযোগিতাতেও দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের একজন ছিলেন তিনি।

তবে চোটের কারণে ক্যারিয়ারে বারবার ছন্দপতন ঘটেছে শামির। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা এবং জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়ায় তার প্রত্যাবর্তনের পথ কঠিন হয়ে উঠেছে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি জায়গা করে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি কোনো হিসাব করতে চান না শামি। তার মতে, ক্রিকেটে কে রান করবেন কিংবা কে উইকেট নেবেন, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই নিজের প্রস্তুতি ও খেলার ওপরই মনোযোগ রাখতে চান তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের আসন্ন সিরিজে সুযোগ না পেলেও শামির সামনে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অভিজ্ঞতা ও অতীতের সাফল্য শামির বড় শক্তি। তবে দলে প্রত্যাবর্তনের জন্য তাকে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নির্বাচকদের আস্থাও অর্জন করতে হবে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান ভারতের এই অভিজ্ঞ পেসার।