ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সদর মডেল থানা-পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়িয়া ও শহরের কাউতলী মোড়ে অভিযান দুটি পরিচালনা করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে বুধল ইউনিয়নের উত্তর বেতবাড়িয়া এলাকায় ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে একটি গ্যারেজের পেছনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জসিম মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জসিম ওই ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের ভাঁজ করা স্টিলের সুইচ গিয়ার, একটি লোহার দা ও তিনটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এরপর রাতে শহরের কাউতলী মোড়ে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন শহরের কলেজপাড়ার তাহের মিয়ার ছেলে রিয়াদ মোর্শেদ ওরফে সাগর (৩২) এবং নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জামাল মিয়া (৩৫) ও মনিচান মিয়ার ছেলে ছগির মিয়া (৩৬)।
পুলিশের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি, ৩০ টি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি লোহার তৈরি চাইনিজ কুড়াল, লোহার হাতলযুক্ত দুটি দা এবং কাঠের হাতলযুক্ত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক দিনে আদালতে ২১ জন, আটক ৯ কিশোর
এদিকে সদর মডেল থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিসহ মোট ২১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিআর গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত তিনজন, সিআর পরোয়ানাভুক্ত চারজন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আটক পাঁচজন, নিয়মিত মামলার ছয়জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আটক তিনজন রয়েছেন।
অন্যদিকে, শহরের কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।