কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বর্তমান চিত্র যেন স্বাস্থ্যসেবার এক অসহায় বাস্তবতা। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের জায়গা হচ্ছে না। ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে সিঁড়িতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অসুস্থ মানুষদের। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধার অভাবে অনেকেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্বজনদের মধ্যে কেউ কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এতসব সমস্যা সত্ত্বেও হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মতে, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ দৃশ্য শুধু কষ্টের নয়, বরং জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে। অসুস্থ মানুষের প্রয়োজন একটি নিরাপদ শয্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক পরিবেশ—সিঁড়িতে পড়ে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অসহায় পরিস্থিতি নয়।