আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান): কেরানীগঞ্জে ২০১৩ সালে চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্লাহ চৌধুরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত অন্যতম পলাতক আসামী তাজুল ইসলাম তানু
র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গত ২৮ মে রবিবার এক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে তানুকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্লাহ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং কোন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন।
এক প্রেসব্রিফিং এ র্যাব-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর বিকেলে আতিক উল্লাহ চৌধুরী তার ইউনিয়ন পরিষদের কাজের জন্য দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ এলাকার উদ্দেশ্যে নিজ বাসা থেকে বের হন। ঐদিন রাতে তিনি বাসায় ফিরে না আসলে তার পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পায়। এ বিষয়ে পরের দিন ১১ ডিসেম্বর তার ছেলে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। এ সময় থানায় অবস্থানকালে আতিক উল্লাহ চৌধুরীর ছেলের কাছে সংবাদ আসে যে, কোন্ডা ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের দেয়াল পড়ে গেছে। এই সংবাদ পেয়ে আতিক উল্লাহর ছেলে সেখানে গিয়ে আগুনে পোড়া বিকৃত অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশটি উলট-পালট করে লাশের সাথে থাকা একটি এটিএম কার্ড ও ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কাগজ পত্র দেখে আতিক উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে এটি তার বাবার লাশ বলে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে আতিক উল্লাহর ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। যাহার মামলা নং- ২১, তারিখ- ১২/১২/২০১৩ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ মামলা তদন্ত শেষে গুলজার ও তানুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমানে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় গত ০২/১২/২০২০ খ্রিঃ তারিখ আসামী তাজুল ইসলাম তানু, গুলজার, মো. জাহাঙ্গীর ওরফে জাহাঙ্গীর খাঁ, আহসানুল কবির ইমন, রফিকুল ইসলাম আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন, শিহাব আহমেদ শিবু ও মো. আসিফসহ ৭ জনকে উক্ত আতিক উল্লাহ চৌধুরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। এ সময় আসামী তাজুল ইসলাম তানু, রফিকুল ইসলাম আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন, শিহাব আহমেদ শিবু ও মো. আসিফসহ ৪ আসামী পলাতক থাকায় বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেন। ইতোপূর্বে অন্যান্য আসামীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও উক্ত মামলার মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম তানু এতদিন আত্মগোপনে ছিল।
অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতিকুল্লাহ চৌধুরীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়ার মূল পরিকল্পনাকারী মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী তাজুল ইসলাম তানু র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্লাহ চৌধুরীর সাথে নির্বাচনের