লালবাগের জে.এন.সাহা রোডে ডাকাতির ঘটনায় আটক- ৩

Date: 2023-06-16
news-banner

আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান): 

 

রাজধানীর লালবাগ থানাধীন জে.এন.সাহা রোডস্থ ডা. মোছা. খাদিজা নুরুন্নাহারের (৫৭) বাসায়  গত ১২ জুন, সোমবার এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় অংশ নেয়া মো. ওমর হারুন (৪০), রহিম (১৬) ও সিয়ামসহ (১৬) ৩ জনকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ডিএমপির লালবাগ থানা পুলিশ। দুষ্কৃতিকারীদের আটক ও ডাকাতি হওায়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি গতকাল (১৫ জুন) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, গত ১২ জুন সকাল আনুমানিক সোয়া ১০ টার দিকে ডা. মোছা. খাদিজা নুরুন্নাহার তার জে.এন.সাহা রোডের ১২/১৩ নং বাড়িতে নিজ বেডরুমে শুয়ে পেপার পড়ছিলেন। আনুমানিক ১১ টার দিকে ২ জন দুষ্কৃতিকারী গামছা সদৃশ কাপড় দিয়ে মুখ আবৃত করে ডা. খাদিজার বেডরুমে প্রবেশ করে এবং ১ জন বাইরে অমেক্ষমাণ থাকে। তাদের দেখে ডা. খাদিজা ভয়ে চিৎকার দিলে তাদের মধ্যে একজন ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং অপরজন তার গলায় চাপাতি ধরে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বলে, নিচে তাদের একজন লোক আছে চিৎকার চেঁচামেচি করবি না। তারা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেছে এবং তাদের দেখে শিক্ষিত মনে হয়নি। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০/৩৫ বছর হবে। দুষ্কৃতিকারীরা ডা. খাদিজাকে তার টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার কোথায় আছে জিজ্ঞেস করে এবং চাবি দিতে বলে। ডা. খাদিজা চাবি দিতে অস্বীকার করলে দুষ্কৃতিকারীরা জোরপূর্বক তার নিকট হতে চাবি নিয়া আলমারী খুলে।

 

এ সময় তারা ১৯ গ্রাম ওজনের ১ টি স্বর্ণের চেইন যাহার অনুমান মূল্য ১,৫০,০০০/- টাকা, ডায়মন্ড লকেটসহ ১ গ্রাম ওজনের ১ টি স্বর্ণের চেইন যাহার অনুমান মূল্য ২০,০০০/- টাকা, ডায়মন্ডের কানের দুল এক জোড়া যাহার অনুমান মূল্য ৭৫,০০০/- টাকা, Cardial oriel ব্রান্ডের ২২ ক্যারেট গোল্ড প্লেটেড ঘড়ি যাহার অনুমান মূল্য ৪০,০০০/- টাকা, ব্যবহৃত একটি পুরাতন স্যামসাং টাচ মোবাইল ফোনসেট যাহার সীম নং- ০১৮১৯২২০২৬৫, মূল্য অনুমান ১০,০০০/- টাকা, নগদ টাকা অনুমান ৮,০০,০০০/- টাকা, নগদ টাকাসহ ডায়মন্ড ও স্বর্ণের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ১০,৯৫,০০০/- টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

উক্ত বিষয়ে ডা. খাদিজা নুরুন্নাহারের পক্ষ হতে লালবাগ থানায় মামলা রুজু হলে তার অভিযোগের ভিত্তিতে উধ্র্বতন কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার এসআই জোতির্ময় মল্লিক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ উক্ত মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ডা. খাদিজার বাড়ির কেয়ারটেকার মো. ওমর হারুনকে ১৩ জুন (মঙ্গলবার) রাত অনুমান সাড়ে ৩ টায় জে.এন.সাহা রোড এলাকা হতে আটক করে। ধৃত ওমর হারুনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলা রুজু হওয়ার মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত দস্যুতার মূল রহস্য উদঘাটিত হয় এবং ডা. খাদিজার বাসার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার মো. ওমর হারুনের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও ২ জন দূষ্কৃতিকারীর সহায়তায় বাদীর লুন্ঠিত মালামাল মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

 

অতঃপর তদন্তকারী অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স আসামী হারুনকে নিয়া অভিযান পরিচালনা করে লালবাগ থানাধীন জেএনসাহা রোডস্থ উক্ত বাড়ির নিচ তলার ষ্টোর রুম হতে উল্লেখিত আসামীর দেখানো মতে এক হাজার টাকার ৬৪১ টি নোট =(১০০০×৬৪১)=৬,৪১,০০০/- টাকা, পাঁচশত টাকার ২৫৮ টি নোট =(৫০০×২৫৮)=১,২৯,০০০/- টাকা, সর্বমোট =(৬,৪১,০০০+১,২৯,০০০)=৭,৭০,০০০/- টাকা। ১৯ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চেইন, ১ গ্রাম ওজনের ডায়মন্ডের লকেটসহ স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, cordial oriel ব্রান্ডের ২২ ক্যারেট গোল্ড প্লেটেড ঘড়ি ও দস্যুতায় ব্যবহৃত বাটসহ ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘের একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

 

পরে আসামী হারুনের স্বীকারোক্তি এবং তথ্য অনুযায়ী দস্যুতায় জড়িত অন্য আসামী রহিমকে ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন বড় মগবাজার এলাকা থেকে আটক করে এবং তাকে সাথে নিয়ে লালবাগ থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল দস্যূতায় অংশ নেয়া সর্বশেষ আসামী সিয়ামকে ভোলা সদর থানাধীন মুসলিম পাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

 

লালবাগে চাঞ্চল্যকর এই ডাকাতি মামলার মূল নায়ক জে.এন.সাহা রোডের ১২/১৩ নং বাড়ির কেয়ারটেকার মো. ওমর হারুন ভোলা জেলার সদর থানার দক্ষিণ পূর্ব চর উমেদ গ্রামের আব্দুল সহিদ ও বিবি ফাতেমা দম্পতির ছেলে বলে জানা যায়। 

Leave Your Comments