ভারতীয় গরুর কবলে গোয়াইনঘাট দেশীয় খামারীদের কপালে হাত
Date: 2023-06-17
সিলেট গোয়াইনঘাটপ্রতিনিধি।।
সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় চোরাচালান কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। একটি চক্রের নেতৃত্বে চোরাকারবারীরা বেপরোয়া ভাবে ভারতীয় চোরাচালান দেশে নিয়ে আসছে। এই চোরাকারবারীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন বিভিন্ন পুলিশের লাইনম্যানখ্যাত সোর্সরা ফলে চোরাকারবারীরা সীমান্ত এলাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বেশির বাগ ক্ষেত্রে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা দমদমা এসকল চোরাচালান করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন রাতে কোটি কোটি টাকার চিনি ও ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে। এদিকে পাচার করা হচ্ছে দেশের মূল্যবান সম্পদ।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। জানা গেছে, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এসআই মিহির প্রতিটি এলাকায় টাকা আদায়ের জন্য সোর্স নিয়োজিত করেছেন। আর এই সোর্সদের মাধ্যমে তিনি চোরাকারবারীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন।
বিছনাকান্দি এলাকায় চোরাকারবারীদের কাছ থেকে গরুর টাকা আদায় করে থাকেন লাইনম্যান গোলাম হুসেন,আর ভারতীয় চিনির টাকার লাইনম্যান উপরগ্রামের জুনেল, গোলাম হুসেন তিনি শুধু গরু ব্যবসায়ীদের নিকট বিছনাকান্দি এলাকায় টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে। এমন কি গোলাম হোসেনের নিজ বাড়ীতে অনেকগুলো ভারতীয় গরু রাখার ঘর রয়েছে।যেখানে তিনি গরু রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো হয়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন হাতে থাকায় গরুর ঘর গুলোকে ফার্মের গরুর ঘর বলে চালিয়ে দেন আর এই অবৈধ টাকার হিসাব দিতে হয় গোয়াইনঘাট থানার এসআই মিহিরের কাছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসকল অবৈধ চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন রুস্তুমপুরের সচেতন মহল। সচেতন মহলের দাবি আগামী কুরবানী ঈদে দেশীয় খামারীদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।এমনকি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসায় দেশীয় খামারীদের গবাদি পশুতে বিভিন্ন রোগের দেখা দিয়েছে।অনেকে বলছেন রক্ষক যখন ভক্ষক হয় সাধারণ মানুষের কপালে দুঃখ রয়।আইন যেখানে ব্যবস্থা নেবে সেখানে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য,গত ২ জুন ২৩ ইং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমানের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের অভিযানে উপরে উল্লেখিত গোলাম হোসেনের বাড়ি থেকে ৪০টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয় এবং পরিশেষে থানায় নিয়ে নিলাম দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের একই কথা গোলাম হোসেনের খুঁটির জোর কোথায়? তা কি একটু খতিয়ে দেখবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।