মোঃ মন্টু রহমান কুষ্টিয়া ভেড়ামারাঃ - কুষ্টিয়া জেলা অটোরিকশা অটো ট্যাম্পু সিএনজি মালিক সমিতির দূর্নীতির প্রতিবাদে গতকাল ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীনেশ সরকার, ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কুষ্টিয়া জেলা অটোরিকশা অটো ট্যাম্পু সিএনজি মালিক সমিতির মালিক ও চালকগণ।
গণ পিটিশন নিম্নরূপ - আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ রেজিঃ নং-খুলনা-২১১৬ মালিক সমিতি কমিটির বিরুদ্ধে এই মর্মে গণ পিটিশন দায়ের করছি যে, আমরা ভেড়ামারা টু কুষ্টিয়া সি.এন.জি মালিক/চালকবৃন্দ। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, কমিটির কর্মকর্তা গণ দীর্ঘদিন ধরে সি.এন.জি সমিতিতে ভর্তি বাবদ নগদ ৫,০০০/=(পাঁচ হাজার) টাকা, একই সি.এন.জি অন্যত্র হস্তান্তরে পুনরায় ভর্তি ফি দিতে হয় অন্যথায় রোডে উঠতে দেয় না, মাসিক রোড ম্যানেজমেন্ট বাবদ ৪০০/=(চারশত) টাকা, প্রতিদিন মালিক সমিতির ২০/=(বিশ) টাকা, সিরিয়াল এর জন্য ২০/=(বিশ) টাকা সহ বিভিন্ন প্রকারন্তে আমাদের নিকট কষ্টে উপার্জিত আয় হতে চাঁদা তুলে আসছে, যা সি.এন,জি মালিক সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। আরো উল্লেখ থাকে যে, দীর্ঘ ০৭(সাত) বছর ধরে কমিটি কোনো প্রকার হিসাব দিতে পারে না উপরোন্ত কোনো নির্বাচন ব্যতীত জোরপূর্বকভাবে একই কমিটি দ্বারা সমিতি পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির এহেন অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিবাদে অসহায় সি.এন.জি চালকগণ কমিটির সদস্যগণের দ্বারা প্রায়শঃ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ শারিরীক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। আমরা রোডে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে কমিটির কোনো প্রকার সহযোগিতা পাই না এবং আমাদের অভিযোগ মূল্যায়ন করা হয় না। বর্তমানে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ সহ মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং অবৈধ কমিটি বিলুপ্ত করনের মধ্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সকল সদস্যগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরনে মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বচন ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির নতুন কমিটি তৈরী করার একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
অতএব, উর্পযুক্ত বিষয়ে আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে মহোদয়ের সমীপে আলোচ্য গণ পিটিশন দাখিল করিলাম ।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা অটোরিকশা অটো ট্যাম্পু সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি সোলাইমান চিশতি ভেড়ামারা অনলাইন প্রেসক্লাব প্রতিনিধি কে জানান, আমি ডিসেম্বর মাস থেকে এখন অবধি অফিসে যায়নি। আমি মৌখিক ভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। যেহেতু আমি দায়িত্বে নেই সেহেতু ডিসেম্বর থেকে অদ্যবধির দায় দায়িত্ব আমি নিবোনা। এসব নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার, আরিফসহ কমিটির লোকজন বিষয় টি বিস্তারিত বলতে পারবে। মাসিক ৪০০ টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা টুটুল নামে একজন আদায় করে সে বলতে পারবে। তিনি ভর্তি ফি এর বিষয়ে বলেন ৫ হাজার না আমরা ১/২ হাজার নিয়ে থাকি।
সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার বলেন, নির্বাচন কেউ দেয়না তাই হয়না তবে আমি নির্বাচন দিতে চাই। কালেকশনের টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সব টাকা ব্যাংকে জমা হয় এবং সভাপতির মনোনীত আরিফ আছে সভাপতি তার কাছেই জমা দিতে বলে।
দপ্তর সম্পাদক রাজু বলেন, নামে আছি কামে নেই, সভাপতি কে সেটাও জানিনা কারণ সভাপতির চেয়ারে বসে আরিফ। সব প্রশ কে সুকৌশলে এড়িয়ে যায় দপ্তর সম্পাদক রাজু।
মাসিক ৪০০ টাকা আদাকারী টুটুল বলেন, আমি ২ মাস ধরে আদায় করছি তার আগে সভাপতি সোলাইমান চিশতি করতো সেই ভালো বলতে পারবে।
মালিক এবং চালকদের বক্তব্য তারা বিগত ৭ বছরের হিসাব চাই, নির্বাচন চাই, দূর্ণীতি মুক্ত সমিতি চাই। গঠন তন্ত্র অনুযায়ী চাঁদা এবং ভর্তি ফি নিতে হবে।
এবিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীনেশ সরকার বলেন, বিষয় টি আমি আজই অবগত হয়েছি। ওসি সাহেবের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয় টি নিয়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, কোন প্রকার চাঁদাবাজি, হটকারিতা বা বিশৃঙ্খলা চলবেনা। অভিযোগ পেয়েছি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। বিষয় টি আমরা খতিয়ে দেখছি।