শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় এবার তদন্তের নির্দেশ এলো জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর

Date: 2023-09-20
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):  

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানাধীন আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় এবার তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্যাডে ৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.৩৫৬.২০২৩.২৯৮০ নং স্মারকমূলে চলতি মাসের ১৮ তারিখ শিক্ষা কর্মকর্তা (মা-২) মো. তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে  কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। 

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর যশোর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিঅ-৬/৫৩৩১/৪২১ নং স্মারকমূলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর শিক্ষক নির্যাতন বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। এর চলমান প্রক্রিয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শুনানি অনুষ্ঠানে লাঞ্চনার শিকার ঐ সিনিয়র সহকারী শিক্ষককে নিজ কার্যালয়ে তলব করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ। 

বিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভপতি তহমিদুর রহমান, কমিটির সদস্য আলিহিম মন্ডল ও তার ছেলে বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে যশোর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর গত ৬ আগষ্ট খ্রিঃ তারিখ, সরকারি বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভিকটিম (নির্যাতিত শিক্ষক) লিখিত আবেদন জানান। 

এর আগে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে তানভীর মাহমুদ বাদী হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করলে ইতোমধ্যে থানা পুলিশ অভিযুক্ত মো. তহমিদুর  রহমান (৬৩), মো. আলিহিম মন্ডল (৪২) ও মো. আশিকুর রহমান পেনাল কোডের ৩২৩/৩০৭/৫০৬(২) ধারায় অপরাধ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমানিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গত ৩১/০৭/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ দৌলতপুর থানার অভিযোগপত্র নং- ৪৬৯ বিজ্ঞ আদালতে বিচারের জন্য দাখিল করেছে বলে মামলাসূত্রে জানা গেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে যে, শিক্ষক নির্যাতনকারী চক্রের উল্লেখিত ঐ ৩ সদস্য পূর্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় আরো একটি মামলা রয়েছে। যার মামলা নং- ৯, তারিখ: ০৩/০২/২০২০ খ্রিঃ এবং ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড। যাহা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 

“পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক নির্যাতন” বিষয়ে বার্তা বিচিত্রার এক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে কয়েকটি শূন্যপদে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগদানকে কেন্দ্র করে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে সমর্থন করতে না পারায় শিক্ষক সহিদুল হকের উপর তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিষয়টি মামলর এজাহারে উল্লেখ না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার বাদী ভিকটিমের ছেলে তানভীর মাহমুদ বার্তা বিচিত্রাকে জানান, “মামলা-মোকদ্দমায় আমাদের খুব একটা পারদর্শীতা নাই। তাই অল্প সময়ে তাড়াহুড়ো করে এজাহারে সব কথা গুছিয়ে লেখা হয় নাই। তাছাড়া মামলার এজাহার লেখার সময় বাবার (নিযাতিত শিক্ষক) দুইজন সহকর্মীর সাথে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।” 

অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগদান বিষয়ে জানার অগ্রহ নিয়ে কথা বলতে চেয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মো. আলমগীরকে মুঠোফোনে কল দিলে ওপাশ থেকে কলটি রিসিভ করেন তিনি। কিন্তু কথা বলার সময় তিনি পরিচয় জানতে চাইলে, পেশাগত পরিচয় দেবার সাথে সাথে কোনো কথা না বলে কলটি কেটে দেন অফিস সহায়ক আলমগীর। পরে বেশ কয়েকবার কল করেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি তার।

এমতাবস্থায় বিভাগীয় সঠিক ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষক নির্যাতন ঘটনার পিছনের ঘটনাও বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার আম-জনতা।

Leave Your Comments