যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আল মামুন সরকার আর নেই।

Date: 2023-10-02
news-banner


মোঃ খোকন মিয়া 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

সোমবার(২ অক্টোবর) সকাল ৯ টার দিকে পৌরশহরের অবস্থিত মুন্সেফ পাড়া বাগান বাড়িস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। বাদ আসর জেলা ঈদগা মাঠে জানাযা শেষে পৌর শহরের শেরপুর কবরস্থানে মায়ের পাশে দাফন করা হবে। 

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আল মামুন সরকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও জনসাধারন মানুষের ঢল পড়ে যায় ওনার বাসায়। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই নেতার মৃত্যুতে।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আল মামুন সরকার তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাধীন(বর্তমান সদর উপজেলা) সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ (রেকর্ড এনআইডি- ১৯৫৮ সালে ১ মার্চ) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম ছফিউর রহমান সরকার মাতা আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম। তিনি স্বাধীনতার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্র হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক(বি.এ- পাস) ডিগ্রী অর্জন করে শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে সার্বক্ষণিক রাজনীতি ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। 

আল মামুন সরকার তৃর্ণমূল পর্যায়ে থেকে আসা একজন মুজিব সেনার নাম। রাজনৈতিক জীবনের হাতের খড়ি একজন মুজিব সেনা হিসেবে। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে পদার্পন করেন। দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে মার্চের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তৎকালীন স্কুল পর্যায়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হিসেবে পৌর এলাকার প্রতিটি স্কুলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন। ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রথমে ৪র্থ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং এপ্রিল থেকে ২য় ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। 

পরবর্তীতে তিনি গেরিলা যুদ্ধে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে জুন ৭১ থেকে বাংলাদেশ ফোর্সের ৩নং সেক্টরের ১৪৭ নম্বর "গেরিলা ট্রুপস কমান্ডার " হিসেবে মুক্তিযোদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক দুঃসাহসিক অপারেশন পরিচালনা করেন। তিনি যুদ্ধের সময় অপারেশন পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন " বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ" ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমান্ডের প্রথম সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তৃর্ণমূল  পর্যায় থেকে ওঠে আসা এই বীর সেনা তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কোষাধ্যক্ষ ও দুইবার সফল সভাপতি ও ১৯৭৮ সালে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কারাগার থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ভি.পি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক কারনে একাধিকবার কারাবরন করেছেন। 

তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য, বাংলাদেশ কৃষক লীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার  আহবায়ক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  যুগ্ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তৎকালীন বিএনপি'র শাসনামলে ১৯৯৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পৌর পিতা হিসেবে ১৯৯৩-৯৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে পৌরসভার অভূতপূর্ণ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে পৌরবাসীর বিপুল সুনাম ও প্রশংসা অর্জন করেন। 

তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Leave Your Comments