ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন রাবির অধ্যাপক!

Date: 2022-09-22
news-banner
সাজ্জাদ হুসাইন, রাবি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম রবিউল করিম মারা গেছেন। বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৫১বছর বয়সী রাবির এই শিক্ষক। তার এই অকাল মৃত্যুতে পুরো বিভাগ জুড়ে চলছে শোকের মাতম।


অধ্যাপক রবিউল করিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সমাজকর্ম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক কবির উদ্দিন হায়দার বলেন, ড. করিম ২০১৯ সাল থেকে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সর্বশেষ ভারতের টাটা মেডিকেল সেন্টারে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক রবিউল করিম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গবেষক। তিনি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সজ্জন ও বন্ধুবৎসল ছিলেন। সমাজকর্ম পেশার প্রসারে তাঁর অপরীসীম অবদান রয়েছে। কিস্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ আমাদের একজন মেধাবী শিক্ষককে হারাতে হলো। দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও বিশ্বমানের গবেষককে হারালো, যার স্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সমাজকর্ম শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

প্রয়াত অধ্যাপকের এই অকাল মৃত্যুতে তার সহকর্মী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, আমরা একজন ভালো মনের ও উঁচু মানের এক প্রগতিশীল শিক্ষককে হারালাম। সেই সাথে সমাজকর্ম পরিবারের এক উজ্জ্বল নক্ষতের এমন অকাল প্রস্থান নিসন্দেহে সমাজকর্মী ও সমাজকর্ম পেশার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।


উল্লেখ্য, ড. করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগ থেকে ১৯৯১ সালে স্নাতক (অনার্স) ও ১৯৯২ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে ১৯৯৭ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে নিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৩ সনে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

তিনি ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (এআইটি) থেকে জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ের উপর এমএসসি করেন। ২০১১ সালে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

এছাড়াও ২০১৮ সালে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে পাবলিক হেলথ সায়েন্স বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে তিনি সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো রির্সাচার ও শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। উচ্চমানের গবেষণার জন্য তার রয়েছে বেশ কৃতিত্ব। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন জার্নালে তার বর্তমানে ৩৫ টিরও অধিক গবেষণা পেপার রয়েছে।

Leave Your Comments