মুদ্রণশিল্পের বিকাশে মুসলমানদের অবদান

Date: 2022-09-22
news-banner
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে কাগজ। বই-পুস্তক, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, খাতা থেকে শুরু করে ব্যাংক চেক ও মুদ্রায় পর্যন্ত কাগজের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে কখনো কখনো এক টুকরা কাগজের দাম হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতিদিন প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কাগজের ওপর নির্ভরশীল।উন্নত কাগজের ব্যবহার ও কাগজশিল্পের উন্নতি বিশ্বকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। বিশ্বব্যাপী কাগজশিল্পের উন্নয়নে মুসলমানদেরও অবদান রয়েছে। মুসলমানরা কাগজ তৈরি আয়ত্ত করে চীনাদের কাছ থেকে। 

৭৫১ সালে তাল্লাস যুদ্ধে চীনা কিছু কাগজশিল্পী আটক হয়। এরপর থেকে মুসলিমরা বাগদাদে কাগজ বানানো শুরু করে। যুদ্ধবন্দি কাগজশিল্পীদের কাছ থেকে মুসলমানরা চীনা কাগজ নির্মাতাদের গোপন পদ্ধতিগুলো দ্রুত আয়ত্ত করে নেয়। এরপর কাগজশিল্পে তারা নতুন বিপ্লব ঘটাতে শুরু করে।বর্তমানেও হেম্প নামক ঘাস থেকে বানানো কাগজ নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং কাঠ থেকে কাগজ বানানোর চেয়ে হেম্প থেকে বানানো কাগজ অর্ধেকের চেয়েও বেশি মূল্যসাশ্রয়ী। হেম্প আবিষ্কার করার পাশাপাশি মুসলিমরা লিনেনও আবিষ্কার করে। 


চীনাদের ব্যবহার করা মালবেরি (তুঁত) গাছের বাকলের বিকল্প হিসেবে লিনেন ব্যবহার করা হতো। লিনেনগুলো ভেঙে পানি ভেজানো হতো। এরপর এগুলোকে রোদে শুকানো হতো। এরপর এগুলো সিদ্ধ করে ধুলাবালি সরিয়ে ফেলা হতো।এরপর এই লিনেনের বলগুলোকে পিটিয়ে মণ্ড বানানো হতো। হাতুড়ি দিয়ে মণ্ড বানানোর এ প্রণালীটিও মুসলিমরা আবিষ্কার করেছিল। মুসলিমরা কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য কাঁচামাল নিয়েও গবেষণা চালিয়েছিল। তারা একবার তুলা দিয়ে কাগজ বানানোর জন্য চেষ্টা চালিয়েছিল।মাদ্রিদের এস্কোরিয়াল গ্রন্থাগারে খুঁজে পাওয়া ১১ শতাব্দীর একটি পাণ্ডুলিপিতে মুসলিম বিজ্ঞানীদের এমন সব প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

৮০০ সাল নাগাদ মিসরেও কাগজ তৈরি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, দশম শতাব্দীতে মিসরেই সর্বপ্রথম কাগজে পবিত্র কোরআন লেখা হয়। এরপর মিসর থেকে পশ্চিমের দিকে উত্তর আফ্রিকা এবং মরক্কোতেও কাগজ তৈরির পদ্ধতি প্রবেশ করে। 

Leave Your Comments