যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আশার আলো: একসঙ্গে ৫৪ দম্পতির গণবিয়ে

Date: 2025-12-03
news-banner

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক মানবিক সংস্থা আল ফারেস আল শাহিম এই বিশেষ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনি সংস্কৃতিতে বিবাহকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। তবে চলমান যুদ্ধে বিয়ের আয়োজন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও আগের মতো জমকালো অনুষ্ঠান এখন সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের পাশে নববধূ ইমান হাসান লাওয়া ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি পোশাক পরিহিত, আর নববধূর স্বামী হিকমাত লাওয়া স্যুটে উপস্থিত। ২৭ বছর বয়সী হিকমাত বলেন, “সবকিছু সত্ত্বেও আমরা নতুন জীবন শুরু করছি। আল্লাহ চাইলে এই যুদ্ধের এখানেই ইতি ঘটবে।”

উপত্যকার মানুষজন ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে নবদম্পতিদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। তবে চলমান মানবিক সংকটের কারণে উৎসবের আনন্দ আংশিকভাবে ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। প্রায় ২০ লাখ গাজার বাসিন্দার মধ্যে অনেকেই বাস্তুচ্যুত, এবং অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট প্রতিদিনের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

নবদম্পতিদের মধ্যে হিকমাত বলেন, “আমরা বিশ্বের অন্য সবার মতো সুখী হতে চাই। এক সময় স্বপ্ন দেখতাম একটি বাড়ি, একটি চাকরি এবং স্বাভাবিক জীবন। এখন আমার স্বপ্ন শুধু একটা তাঁবু।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইমান যোগ করেন, “এতো শোকের পর আনন্দ অনুভব করা খুব কঠিন। আল্লাহ চাইলে আমরা আবার সবকিছু গড়ে তুলব।”

এই গণবিয়ে গাজার মানুষের স্থিতিস্থাপকতা ও আশার প্রতীক হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের ছায়া থাকা সত্ত্বেও নতুন জীবন শুরু করার সাহস প্রকাশ পেয়েছে।

Leave Your Comments