আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ উপকূলীয় ও দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভোলার মনপুরা উপজেলায় একটি আধুনিক ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ মানবিক কার্যক্রম উপকূলবাসীর জীবনরক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ লঞ্চঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অকুতোভয় যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ ওসমান হাদী ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’। নদী ও সাগরবেষ্টিত দুর্গম এলাকায় রোগী পরিবহন, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন ও সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার আত্মত্যাগ ও আদর্শ মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উপকূলীয় মানুষের জীবন রক্ষায় এই উদ্যোগের সঙ্গে তার নাম যুক্ত করতে পেরে সরকার গর্বিত।
তিনি আরও বলেন, সরকার উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার—বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নদী ও সাগরনির্ভর জনপদের বাস্তবতা বিবেচনায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।