রহমান ও রহিম সেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে শুরু করছি, যার হাতেই আমাদের জীবন, যার হাতেই আমাদের মরণ।
এই পৃথিবীতে আল্লাহ পাক মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে অন্যায় ও পাপের সঙ্গে সমান্তরালভাবে মানুষ বিচরণ করছে। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না।”
অন্যায়কারীরা তথা অপরাধীরা সবসময় চেষ্টা করে মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দিতে। কিন্তু সত্য চিরভাস্বর—সত্যের কোনো মৃত্যু নেই। আর এই সত্যকে বুকে লালন করে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সদা জাগ্রত থাকেন পৃথিবীর প্রতিটি সাংবাদিক।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা—একটি জাতির কাছে দায়বদ্ধতা, একটি জাতির আয়না। এই সুমহান পেশায় আসতে পেরে আমি মহান আল্লাহ পাকের দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।
আমি সুদৃঢ় ও দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি—আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও আমি সত্য প্রতিষ্ঠা করব। আমি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। সবার উপরে, সবার আগে—বাংলাদেশ তথা আমার এই মাতৃভূমির গুরুত্ব আমার কাছে থাকবে আমার জীবনের চেয়েও বেশি।
আমি দরিদ্র, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হতে চাই। নিজের বাস্তব জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, সুদীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আমি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি—এই পৃথিবীতে “জোর যার, মুলুক তার” নীতিতেই যেন অনেক কিছু পরিচালিত হয়।
তাই আমি এমন একটি পেশা খুঁজছিলাম, যেখানে মানবতার বিজয় হবে; যেখানে অন্যায়কারীরা পদদলিত হবে; সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে; মানুষ শান্তিতে ঘুমাবে; দুর্বলের ওপর সবলের কোনো অত্যাচার থাকবে না; এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত থাকবে দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল।
এমন একটি মানবিক গুণাবলি-সম্পন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহান ব্রত নিয়ে আজ আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনে পদার্পণ করছি।
সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে “বার্তা বিচিত্রা” পরিবার সদা সর্বদা আমার পাশে ছিল। তাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সৎ সাহসিকতায় আমি সাংবাদিকতাকে আমার নেশা ও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি।
দেশবাসীর প্রতি আমার আকুল আবেদন—আমি যেন আমার মাতৃভূমির জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে যেতে পারি।
আল্লাহ, তুমি আমাকে কবুল করো। আমিন।