নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় দীর্ঘ চার বছর কলাম লিখেও ন্যায্য পাওনা বা সম্মানি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে তিনি পত্রিকাটির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক তথা ‘আমির উল জামাত’-এর কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে গোলাম মাওলা রনি সরাসরি সম্বোধন করে লেখেন, “ইয়া আমির উল জামাত! ইনসাফ চাই! ইনসাফ চাই!” তিনি অভিযোগ করেন, গত চার বছর ধরে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় উপ-সম্পাদকীয় লিখে আসছেন, কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তার মেহনতের মূল্য পরিশোধ করছে না। বহুবার নিবেদন করেও কোনো কাজ না হওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে এই আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
রনি জানান, অন্যান্য জাতীয় পত্রিকা তাকে যে পরিমাণ সম্মানি দিয়ে থাকে, কেবল সহানুভূতির কারণে তার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ অর্থে তিনি নয়া দিগন্তে লিখতেন। তিনি লেখেন, “একটা সময় আপনাদের হয়তো অভাব ছিল। কিন্তু আল্লাহর দয়ায় আপনারা সংকটমুক্ত। কিন্তু তারপরও কেন পাওনা পরিশোধ হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়!”
নিজের হাড়ভাঙা খাটুনির কথা উল্লেখ করে এই লেখক বলেন, “আমি খেটে খাওয়া মানুষ। জীবন জীবিকার জন্য এখনো আমাকে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা মেহনত করতে হয়। ৪ বছরে ২০০টি উপ-সম্পাদিকীয় লিখতে প্রায় ৫ লাখ শব্দ নিজের হাতে লিখতে আমাকে কী পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে তা বোধকরি আপনি বুঝবেন।”
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে তিনি অত্যন্ত আবেগী ভাষায় লেখেন, “আমার ঘাম, শ্রম, মেধা, মনন এবং আপনাদের প্রতি সহানুভূতির ইনসাফ চাই।”
গোলাম মাওলা রনির এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একজন লেখকের মেহনতের মূল্য পরিশোধ না করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, গোলাম মাওলা রনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখে আসছেন। নয়া দিগন্তের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও পারিশ্রমিক নিয়ে এমন প্রকাশ্য অভিযোগ এর আগে আসেনি। এই বিষয়ে নয়া দিগন্ত কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।