আমিনুর রহমান,অভয়নগর প্রতিনিধি:যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের লেবুগাতী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে লেবুগাতী খাল। যেটি ভৈরব নদী থেকে উৎপত্তি হয়েছে।ছোট বড় প্রায় ২৭টা বিলের পানি এই খাল দিয়ে ওঠানামা করে।ভাল ফসল উৎপাদনের নিয়ামক এই খাল।কিন্তুু এবছরই দেখা যায় কচুরিপানা জন্মে খালটি পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বন্দ হয়েছে পানি প্রবাহ ও নৌকা চলাচল।গতকাল একদল কৃষককে খালের কচুরিপানা অপসারণ করতে দেখা যায়।কচুরিপানা অপসারণকাজে অংশ নেয়া কৃষক হুমায়ুন কবির, যিনি লেবুগাতী-বাশুয়াড়ী ঘের মালিক সমিতির সভাপতি এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে কচুরিপানা জন্মালেও খাল বন্দ হতে পারেনি কোন বছর।নদী থেকে লোনা পানি আসার কারণে কচুরিপানা মারা যায়। এবছর নদী থেকে লোনা পানি না আসার কারণে কচুরিপানা মারা যায়নি বরং দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে খাল বন্দ হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো জানালেন অভয়নগর অংশের লেবুগাতী, হিদিয়া ও বাশুয়াড়ী গ্রামের কৃষকদের বিল বালিয়াডাঙ্গায় রয়েছে প্রায় এক হাজার একর জমিতে মৎস্য ঘের, সেই সকল ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমে সবজি ও ধান চাষ করে থাকে, চিংড়ি ও সাদা মাছে চাষের পাশাপাশি শসা ও মিষ্টি কুমড়া চাষে রয়েছে এই এলাকার বেশ সুখ্যাতি। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণের জন্য এই লেবুগাতী খাল দিয়েই নৌকাযোগে আহরণ করে থাকে। বোরো মৌসুমে হিদিয়া, লেবুগাতী, বাশুয়াড়ী গ্রামের কৃষকদের ধান বাড়ি আনতে এই খালের বিকল্প আর কিছু নাই। এছাড়া কৃষক তাদের চাষাবাদের জন্য বিলের মধ্যকার ঘেরগুলোতে নৌকাযোগে যাতায়াত করে থাকে।কচুরিপানার কারণে পানি প্রবাহতো বন্দ হয়েছে কৃষকরাও পড়েছে বিপাকে।তাদের ফসল ফলানো যেমন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমন উৎপাদিত পণ্য ঘরে আনতে বা তুলতে দারুণ সমস্যা হবে।
এসম্পর্কে কৃষি অফিসার গোলাম ছামদানী বলেন,এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ বা আবেদন করেনি।আবেদন পেলে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৭ নং শুভরাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে কয়েকবার ফোন করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিস বা অন্য কোন দপ্তরে না গিয়ে স্থানীয় ঘের চাষি সমিতির সহযোগিতায় নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে লেবুগাতী খালের কচুরিপানা অপসারণ করছেন।বিষয়টির প্রতি উর্ধতনমহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।