পুলক রায়, শেরপুরঃ
শেরপুর শহরে এক সাংবাদিকের বাসায় সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটেছে। একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলামের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলখানা রোডের নওহাটা এলাকায় সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলায় গেলে বাসাটি ফাঁকা পড়ে থাকে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়ির পেছনের টিনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রধান দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ অর্থ ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। চোরেরা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ, ছয় ভরি রুপা, ৪০ হাজার টাকা এবং একটি এলইডি টিভি নিয়ে যায়, যার মোট মূল্য আনুমানিক ছয় লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে একই বাড়ি থেকে দুটি স্মার্টফোন চুরির ঘটনাও ঘটে, যা এখনো উদ্ধার হয়নি। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পুলিশি টহলের অভাবে চোরচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে চুরি বেড়েছে। রাতেও নিরাপদে ঘুমানো যায় না। আমরা চাই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং টহল জোরদার করা হোক।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের তুলনায় ভাড়াটিয়া ও নতুন বাড়ির মালিকদের বাসাতেই বেশি চুরির ঘটনা ঘটছে, যা রহস্যজনক।
আরেক বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, “এলাকায় প্রায়ই চুরি হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এলাকায় নিয়মিত মাদকসেবন ও জুয়ার আসর বসে, যা অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত চোরচক্রকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।