যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে: ট্রাম্প

Date: 2026-03-27
news-banner

ইরান যুদ্ধ থামানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে এখন ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, “তারা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারব কি না, বা আমরা তা করতে চাই কি না—আমি জানি না।” মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনায় ফেরার চেষ্টা করছে ইরানই।

ট্রাম্প একদিকে ইরানের নেতাদের ‘দক্ষ আলোচক’ বলে উল্লেখ করেন, আবার একই সঙ্গে তাদের ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে আসার দায়িত্ব ইরানেরই। তার ভাষায়, “দেখা যাক তারা এটা করতে চায় কি না। এর মধ্যে আমরা বাধাহীনভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাব।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে এবং এর ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “কয়েক সপ্তাহ আগের মতো এখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে না। এর ফলে আমাদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি হয়েছে।”

ভ্যান্স আরও বলেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে আরও সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগও। সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে ভ্যান্সের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। অতীতে তিনি বিদেশে কোনও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর বিরোধিতা করেছিলেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের পক্ষে বেশি সক্রিয়ভাবে অবস্থান তুলে ধরেছেন। ভ্যান্স বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন, কেন এই সময়ে ইরানে হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তার মতে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

ভ্যান্স বলেন, “এটি যেকোনও সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন।”

Leave Your Comments