৭ বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার, সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনের দণ্ড!

Date: 2026-03-27
news-banner

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শখের বসে ৭ বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার করে প্রশাসনের শাস্তির মুখে পড়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন। স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ধার করেন।

​বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গজারিয়া উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। অপরাধ স্বীকার করায় ও বয়স বিবেচনায় তাদের মধ্যে একজনকে এক লক্ষ টাকা এবং বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দ করা হয়েছে পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৩টি শটগান, ১টি এয়ারগান ও ৬৩ রাউন্ড শটগানের গুলি।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ.স.ম. হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২) ও আরিক আহমেদ (২৭)।

​স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে প্রাইভেটকারে করে ছয়জন লোক ঢাকা থেকে গজারিয়া উপজেলায় আসেন। তাদের হাতে শটগান ও এয়ারগান ছিল। তারা ট্রলারে গজারিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় পাখি শিকার করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় যখন তারা ফিরে আসলেন তখন স্থানীয়রা দেখতে পায় তারা প্রায় ৪ মণ পাখি শিকার করেছেন। এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। ৭টি বস্তা ভর্তি করে সেই পাখি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় তাদের গতিরোধ করে গ্রামবাসী। এ সময় স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত দশটার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরমান হোসেন বলেন, তারা যেভাবে পাখি শিকার করতে এসেছেন সেটা একটি যুদ্ধের প্রস্তুতির তুলনায় কম নয়। বিভিন্ন ধরনের বন্দুক ও প্লাস্টিকের কৌটা ভর্তি গুলি ছিল তাদের কাছে। এক দিনেই তারা কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি শিকার করেছেন। ওজন দেখে যেটা ধারণা করছি, সাতটি বস্তায় অন্তত চার মণের বেশি পাখি হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, তারা শত শত পাখি হত্যা করেছে। একদিনে যদি এত পাখি মেরে ফেলা হয় তবে আমাদের প্রকৃতি থেকে অচিরেই পাখি হারিয়ে যাবে।
​এদিকে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তার খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না; শুধুমাত্র শখের বশেই পাখিগুলো শিকার করেছেন তিনি। এর আগেও পাখি শিকার করতে একাধিকবার গজারিয়া উপজেলায় তিনি এসেছিলেন বলে জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত বারোটার সময় ​বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, 'খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনাদের পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

​বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ কয়েকজন বয়স্ক লোক থাকায় তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারাদণ্ড প্রদান না করে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ ধারায় অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা লিপ্ত না হন সেজন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে ও বাকিদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।

Leave Your Comments