আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
দীর্ঘ ১৭ বছরের সম্পর্ক, প্রেমের টানে লিঙ্গ পরিবর্তন, আর শেষে প্রতারণার অভিযোগ—এমন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও বরিশাল জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোত কাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদ প্রেমিকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ার আশ্বাসে লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর দেশে ফিরে জানতে পারেন, তার প্রেমিক বিপ্লব হোসেন অন্য একজন নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন।
ফিরোজ জানান, স্কুলজীবন থেকেই বিপ্লবের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরু। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের সহবাসে রূপ নেয়। পারিবারিকভাবে দুর্বল অবস্থার কারণে বিপ্লব দীর্ঘ সময় ফিরোজের বাড়িতেই অবস্থান করতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
২০১৩ সালে এইচএসসি শেষে দু’জন ঢাকায় গিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরবর্তীতে ফিরোজ একটি নৃত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং উপার্জিত অর্থের বড় অংশই বিপ্লবের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন।
ফিরোজের ভাষ্য, সম্পর্ককে বৈধতা দিতে বিপ্লব তাকে লিঙ্গ পরিবর্তনের পরামর্শ দেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি ভারতে গিয়ে অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা নেন। প্রায় এক বছর চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, বিপ্লব ইতোমধ্যে অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
এ ঘটনায় ফিরোজ দাবি করেন, গত ১৭ বছরে বিপ্লব তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই অর্থ দিয়ে বিপ্লব ও তার পরিবার বাড়ি-গাড়ি নির্মাণ করেছে বলেও অভিযোগ তার। এ বিষয়ে তার কাছে দালিলিক প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফিরোজ মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে অতীতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল—এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী ফিরোজ এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।