আরব আমিরাতের ওপর কেন এত ক্ষোভ ইরানের, ‘গুঁড়িয়ে’ দিতে চায় দেশটিকে

Date: 2026-05-05
news-banner

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে এই ঘটনা, যা ইতোমধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমিরাতের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে একটি ড্রোন দেশটির পূর্ব উপকূলীয় কৌশলগত জ্বালানি কেন্দ্র ফুজাইরা এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে একটি তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত তিনজন ভারতীয় কর্মী আহত হয়েছেন।

ফুজাইরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই স্থাপনায় হামলা শুধু আমিরাত নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এ হামলার পর কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় উত্তেজনাকর ঘটনা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই হামলা কি নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা করতে যাচ্ছে?

এর আগে ইরান-সম্পর্কিত সংঘাতে অন্তত সাতটি আরব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে সময় হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো আর কোনো যুদ্ধ চায় না। তবে চলমান উত্তেজনা তাদের আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়; এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর রয়েছে—পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা।

Leave Your Comments