স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে একক প্রস্তুতিতে এনসিপি, জোট নিয়ে থাকছে কৌশলী অবস্থান

Date: 2026-05-15
news-banner

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে একদিকে সাংগঠনিক বিস্তার, অন্যদিকে আগাম প্রার্থী ঘোষণা—দুই পথেই এগোচ্ছে National Citizen Party (এনসিপি)। তবে দলটি এককভাবে নির্বাচন করবে, নাকি জোটগতভাবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয় এনসিপি। এতে প্রশ্ন ওঠে, Bangladesh Jamaat-e-Islami–র সঙ্গে তাদের জোট কি টিকে থাকবে?

দলীয় সূত্র বলছে, আপাতত দুই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে এনসিপি। প্রকাশ্যে তারা একক নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছে, তবে নির্বাচনের আগে জোটের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের অংশ হয়ে অংশ নেয় এনসিপি। ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টিতে জয় পায় দলটি। আরও ১৭টি আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল তাদের প্রার্থীরা।

দলটির ভেতরে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি এখনো এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার মতো পরিপক্ব হয়নি। অন্য অংশের বিশ্বাস, একক নির্বাচনে গেলে নিজেদের বাস্তব শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক Ariful Islam Adib বলেন, “জোট হবে কি না, সেই অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না। আমরা এককভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি।”

গত ২৯ মার্চ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। এরপর ১০ মে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। আগামী ২০ মে আরও ১০০ স্থানে প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপি প্রার্থী করেছে দলের মুখপাত্র Asif Mahmud Sajib Bhuiyan–কে। আর ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হচ্ছেন Ariful Islam Adib নিজেই।

এছাড়া কুমিল্লা সিটিতে Tarikul Islam, রাজশাহীতে Mobashwer Ali এবং সিলেটে Abdur Rahman Afzal–এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘিরেই মূল টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জামায়াত সেখানে ডাকসুর সাবেক ভিপি Abu Sadiq–কে প্রার্থী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী ছাত্ররাজনীতির দুই পরিচিত মুখের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বাড়ছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা মনে করছেন, এই বিরোধই স্থানীয় নির্বাচনে জোট না হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি দল সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে এনসিপি। দলটির লক্ষ্য, বিএনপি এমনকি বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা Awami League–এর যেসব নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাঁদেরও দলে টানা।

১০ মে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার সময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান Sarjis Alam বলেন, “যেকোনো রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিরা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।”

দল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকে একাধিক নেতা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা Ishaq Sarkar, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি Fersamin Haque Iqbal এবং জামায়াতের সাবেক আমির Motiur Rahman Nizami–র ছেলে Mohammad Nadimur Rahman

এনসিপির নেতাদের বিশ্বাস, আগাম প্রার্থী ঘোষণা ও দল সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে দলটি।

Leave Your Comments