ট্রাম্পের অবরোধে জ্বালানি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার সময়ে কিউবা সফরে সিআইএ পরিচালক

Date: 2026-05-15
news-banner

Central Intelligence Agency–এর প্রধান John Ratcliffe গতকাল কিউবা সফর করেছেন। কয়েক দশকের বৈরিতার ইতিহাসের মধ্যে United StatesCuba–এর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি অস্বাভাবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সফর এমন সময়ে হলো, যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কিউবা ঘোষণা করেছে যে তাদের তেলের মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও বিক্ষোভ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাপ্রধান Ramon Romero Carbello এবং অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সফরে র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

কিউবা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের জটিল সম্পর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাভানার দাবি, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয় এবং দেশটিকে “সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র” হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার যৌক্তিকতা নেই।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। বিভিন্ন সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাভানার বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সাবেক নেতা Raul Castro–এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার উপায় খুঁজছে। রাউল কাস্ত্রো হলেন প্রয়াত বিপ্লবী নেতা Fidel Castro–এর ভাই।

এদিকে কিউবার জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী Vicente de la O Levy রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে আসা সর্বশেষ তেলবাহী জাহাজের মজুতও “শেষ হয়ে গেছে”।

তিনি বলেন, মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটি নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না এবং এর প্রভাব কিউবার অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মারাত্মক আঘাত হেনেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট Miguel Diaz-Canel যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “পরিকল্পিতভাবে একটি মানবিক সংকট তৈরি করা হয়েছে।”

সংকটের মধ্যে কিউবার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিছু এলাকায় “বাতি জ্বালাও” স্লোগানও শোনা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার কিউবার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা একই সময়ে বিদ্যুৎহীন ছিল। পূর্ব কিউবার বহু অঞ্চল আবারও অন্ধকারে ডুবে যায় বৃহস্পতিবার রাতে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio কিউবার অর্থনীতিকে “ভেঙে পড়া ও অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত কিউবার পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তাঁর বিশ্বাস।

তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। গত ১০ এপ্রিল হাভানায় উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Leave Your Comments