United Arab Emirates থেকে হাজার হাজার পাকিস্তানি শ্রমিককে রহস্যজনকভাবে বহিষ্কারের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের শিয়া নেতারা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে হঠাৎ করেই ফিরতে শুরু করেন বহু শ্রমিক। তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর আমিরাতে নির্মাণ, পরিবহন ও সেবা খাতে কাজ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
খুররাম জেলার বাসিন্দা Hussain Turi বলেন, “তারা আমাদের কোনো কারণ বলেনি। কিন্তু আমরা বুঝেছি। আমাদের একমাত্র অপরাধ, আমরা শিয়া।”
বহিষ্কৃত শ্রমিকদের অভিযোগ, স্থানীয় থানায় ডেকে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রাখার পর তাঁদের কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ না দিয়েই পাকিস্তামের বিমানে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye–এ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
তবে Ministry of Interior of Pakistan এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ৮ মে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বহিষ্কারের খবর “ভিত্তিহীন” এবং “বিভ্রান্তিকর প্রচারণা”।
তার পরও পাকিস্তানের শিয়া নেতারা বলছেন, বাস্তবে শিয়া শ্রমিকেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশিষ্ট আলেম Allama Amin Shaheedi–র দাবি, প্রায় ১৫ হাজার পাকিস্তানি হয় বহিষ্কৃত হয়েছেন, নয়তো তাঁদের আবার আমিরাতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যদিও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বহিষ্কৃত অনেকের অভিযোগ, শিয়াদের ধর্মীয় উপাসনালয় বা ইমামবারগাহে প্রবেশের সময় এমিরেটস আইডি স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাঁদের ধারণা, এই বায়োমেট্রিক তথ্য ও যাতায়াতের রেকর্ড ব্যবহার করে শিয়াদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের চাকওয়াল জেলার কায়সার নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, দুবাই মলে সিসিটিভির মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। তাঁর ভাষায়, “তারা আগে থেকেই জানত আমি কে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির পেছনে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে Iran–কে ঘিরে উত্তেজনা, শিয়া রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
১৯৭৯ সালের Iranian Revolution–এর পর থেকেই Saudi Arabia ও United Arab Emirates–এর মতো দেশগুলো শিয়াদের মধ্যে ইরানের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষ করে “বিলায়াত-আল-ফকিহ” মতাদর্শকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এই মতবাদের মাধ্যমে শিয়াদের রাজনৈতিক আনুগত্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা করে তারা।
২০২০ সালের Abraham Accords–এর পর আমিরাতে শিয়াদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে বহিষ্কৃত বহু পাকিস্তানি শ্রমিক দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই আমিরাতে নিজেদের সঞ্চয়, ব্যবসা বা বকেয়া বেতন ফেলে এসেছেন এবং সেগুলো ফেরত পাওয়ার আইনি সুযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন।