গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে সাত দিনের ব্যবধানে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল থেকে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জনকে কামড় দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও বাড়িতে মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—নন্দ রানী (৫৫), ফুল মিয়া (৫২), রতনেশ্বর বর্মণ (৪২), আফরোজা বেগম (৪০) ও সুলতানা বেগম (৩৯)।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তারা বর্তমানে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন Md. Rofiquzzaman জানিয়েছেন, মৃতদের ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক (রেবিস) সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া, ক্ষত যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা বা রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) না পাওয়ার কারণে এমন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে এবং আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণে রাখতে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে কুকুরদের রেবিস টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪–৫ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক Mohammad Masudur Rahman Molla জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে আতঙ্কের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলও কমে গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা আর না ঘটে।