আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কী শর্তে জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে

Date: 2026-05-15
news-banner

ভারতের শীর্ষ ধনী শিল্পপতি Gautam Adani–র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে করা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

২০২৪ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ এনেছিলেন যে, ভারতের একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় আদানি ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। তবে আদানি গ্রুপ সব অভিযোগই শুরু থেকেই “ভিত্তিহীন” বলে অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র অনুযায়ী, অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (U.S. Securities and Exchange Commission)–এর দায়ের করা একটি দেওয়ানি জালিয়াতি মামলা সম্প্রতি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই মামলায় আদানি ও তাঁর ভাতিজা Sagar Adani কোনো দোষ স্বীকার না করেই জরিমানা দিতে সম্মত হন।

এসইসি অভিযোগে বলা হয়েছিল, ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি থেকে সুবিধা নিতে ঘুষের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়।

তবে আদানির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনি এখতিয়ারের বাইরে এবং অভিযোগ প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

সূত্র বলছে, আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা—যিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে প্রভাবশালী—মামলা প্রত্যাহারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, মামলা চলমান থাকলে আদানির পক্ষে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

এদিকে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মামলার গতিপথে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ঘোষণার পর ভারতীয় শেয়ারবাজারে আদানি গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে ওঠানামা দেখা গেছে। Adani Enterprises–এর শেয়ার শুরুতে বাড়লেও পরে মিশ্র অবস্থায় চলে যায়। একইভাবে Adani Green EnergyAdani Energy Solutions–এর শেয়ারেও পতন দেখা যায়, অন্যদিকে Adani Ports and SEZ কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারতের একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, যেখানে প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য গোপনের মাধ্যমে বিপুল ঋণ ও বন্ড তোলার অভিযোগও আনা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের দিকে অগ্রগতি হলেও ভারতের ভেতরে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়ন্ত্রক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এতে কোম্পানিটির জন্য সম্পূর্ণ আইনি ঝুঁকি শেষ হয়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের আইনি চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়।

Leave Your Comments