বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি):
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলমের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলম জানান, কয়েকদিন আগে তিনি ও কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলী গুলশাখালী, বগাচতর ও ভাসান্যাদম এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান। এসময় স্থানীয় ঠিকাদার তৈয়ব আলী তাদের সঙ্গে ছিলেন। কাজ পরিদর্শন শেষে তৈয়ব আলী ভাসান্যাদম এলাকায় থেকে যান এবং পরে মোটরসাইকেল ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবেন বলে চালককে জানান।
তিনি বলেন, ফেরার পথে চালক আমার কাছে ভাড়ার টাকা দাবি করলে আমি তা পরিশোধ করি। পরে ঠিকাদার তৈয়ব আলী আমার অফিসে এসে ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেন। এসময় অফিসে সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন, নিজাম, জসিমসহ ঠিকাদার তৈয়ব আলী ও দীপংকর উপস্থিত ছিলেন। টাকা দেওয়ার ঘটনাটি জসিম ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়ে ঘুষ লেনদেন হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার তৈয়ব আলী ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, ভিডিওটি যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এটি কোনো ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছিল না। আমি মোটরসাইকেল ভাড়া বাবদ প্রথমে ১ হাজার এবং পরে আরও ৫০০ টাকা দিই। মিথ্যা প্রচারে আমারও সম্মানহানি হয়েছে।
অন্যদিকে সহকারী প্রকৌশলী জসিম ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি ভিডিও করেছিলাম, তবে কোথাও প্রকাশ করিনি। পরে আমার সহকর্মী নাদিম কিছু সময়ের জন্য আমার মোবাইল নিয়েছিল। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না। তিনি আরও বলেন, এটি ঘুষের টাকা ছিল না, ভাড়া বাবদ দেওয়া টাকা ছিল।