ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরান ইস্যুতে যেভাবে চাপ ও কঠোর কূটনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে আসছিলেন, তা এখন কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
প্রকাশ্য হুমকি, কড়া ভাষা এবং “চূড়ান্ত শর্ত”–নির্ভর কূটনীতি অতীতে বিভিন্ন দেশকে আলোচনায় আনতে সাহায্য করলেও Iran–এর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। বরং এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ১১ সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে একের পর এক কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরানের নেতৃত্বে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষায় তারা কোনো ধরনের “আত্মসমর্পণমূলক সমঝোতা”তে যেতে রাজি নয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দেশটির কৌশলগত অবস্থান এখনো শক্তিশালী।
সাবেক মার্কিন আলোচক রব ম্যালি বলেন, “কোনো রাষ্ট্রই নিজেকে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে দেখাতে পারে না, তাই এই অচলাবস্থা যৌক্তিক সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র কর্মকর্তা নেট সোয়ানসন বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান পাওয়া যাবে—এটি একটি ভুল ধারণা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র Olivia Wells ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলকে “ভালো চুক্তি অর্জনের প্রমাণিত পদ্ধতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান এখন আলোচনায় আসতে চাপের মুখে রয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি, এমনকি ধ্বংসের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের প্রতি এই চাপ প্রয়োগের কৌশল অতীতে কিছু ক্ষেত্রে সফল হলেও বর্তমান সংকটে তা উল্টো ফল দিচ্ছে। বরং এটি ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণভাবে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, রাজনৈতিক চাপ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। রিপাবলিকান পার্টিও কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। বরং বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেনিস রসসহ একাধিক সাবেক উপদেষ্টা মনে করেন, কৌশলগত অসংগতি এবং অতিরিক্ত কঠোর ভাষা কূটনৈতিক বার্তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যা সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।