রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মেক্সিকো বিদায় কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

Date: 2026-07-06
news-banner

এটাই কি চলতি বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ? এমন প্রশ্ন উঠেছিল খেলা শেষ হওয়ার আগেই। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচটি যেন ছিল রোমাঞ্চের পূর্ণ প্যাকেজ—গোল, পাল্টা আক্রমণ, পেনাল্টি, লাল কার্ড আর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—সবই ছিল এক ম্যাচে।


শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। তবে হারলেও লড়াইয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না মেক্সিকো। ম্যাচ শেষে দর্শকদের অনেকেই বলছিলেন, স্কোরলাইন ইংল্যান্ডের পক্ষে হলেও হৃদয়ের বিচারে মেক্সিকোও জিতেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। তবে প্রথমার্ধে দাপট দেখায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ৩৬ ও ৩৮ মিনিটে টানা দুই গোল করে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা। বিশ্বকাপে চার ম্যাচ পর এই ম্যাচেই প্রথম গোল হজম করে মেক্সিকো, সেটাও নিজেদের ‘দুর্গ’ আজতেকায়—যেখানে বিশ্বকাপে তারা আগে কখনো হারেনি।


৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে ম্যাচে ফিরে আসে মেক্সিকো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে পারেনি তারা। ফলে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ডের ২–১ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর ম্যাচে আসে বড় মোড়। ৫৪ মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। তখনই ম্যাচে চাপ বাড়াতে থাকে মেক্সিকো।

তবে উল্টো ৬০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন হ্যারি কেইন।


ম্যাচে নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। ৬৮ মিনিটে ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সে ফাউল করেন কেইন নিজেই। পেনাল্টি পায় মেক্সিকো, আর সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রাউল হিমিনেজ।

শেষ আধা ঘণ্টায় মেক্সিকো একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে কোণঠাসা করে ফেলে। বল দখলে ৬৬ শতাংশ এগিয়ে থাকা দলটি মোট ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৫টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে ইংল্যান্ড মাত্র ৬টি শট নিয়ে ৫টিই লক্ষ্যভেদ করে কার্যকর ফুটবলের উদাহরণ দেয়।


ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সেভ শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। কর্নারেও ১২-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মেক্সিকো, কিন্তু গোলের দেখা আর পায়নি।

বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হওয়া এই ম্যাচে আজতেকা স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে এক স্মরণীয় লড়াইয়ের। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার কাছে হারের স্মৃতি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। সেই দুঃখ যেন ধুয়ে মুছে দিল এই জয়।


ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেন, “এই ম্যাচ আমাদের মনে গেঁথে রাখার মতো। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি।”

এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। অন্যদিকে দারুণ লড়াই করেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো মেক্সিকোকে। আজতেকার গ্যালারিতে তখন শোনা যাচ্ছিল সমর্থকদের কান্না, আর ইংলিশ শিবিরে উল্লাস।

Leave Your Comments