কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দম্পতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ।

Date: 2022-11-06
news-banner


মোঃ রমজান আলী ক্রাইম রিপোর্টার 

কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যা দেখার কেউ নাই। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিকট দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে চাকুরীরত আছেন গোলাম মাহবুব ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতি।
 এ দম্পতি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করে নিরিহ রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। যার মধ্যে রয়েছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করতে পারবেন না। এরপরও ওই দম্পতি তাদের চেম্বারের প্যাডে ও সাইনবোর্ডে ডাক্তার ব্যবহার করছেন।
 হাতে গোনা কয়েকটা ঔষুধ লেখার কথা থাকলেও রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্রে লিখেছেন সব ধরনের ওষুধ। এছাড়া সুমাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগী ভাগানোর,৭০ টাকার ইনজেকশন দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ৭শ টাকা আদায় করারও।
এদিকে ওই দম্পতির অপচিকিৎসার শিকার মহেশপুর উপজেলার কাকিলা দাড়ি গ্রামের মাতুয়ারা খাতুন বলেন, আমার বাম হাতের জয়েন্টে জ্বালা যন্ত্রনা করতো। এ কারনে হাসপাতালের ১০ নাম্বার রুমের মাহবুব ডাক্তারের কাছে যায়। ডাক্তার দেখে এক্স-রে করে আনতে বলেন। 
এরপর বলেন ৭ শ টাকার একটা ইনজেকশন ফুটাতে হবে,তাহলে ব্যথা ভাল হয়ে যাবে। আমি ডাক্তার কথায় রাজি হলে,তিনি ওই হাসপাতালের একটা গোপন ঘরে নিয়ে যায়। এরপর ইনজেকশনটি ফুটিয়ে দেন। এরপর থেকে আমার হাতের অবস্থা আরো খারাপ হয়। বিষয়টি আমার ছেলে ডাক্তারের কাছে গেলে, ডাক্তার ইনজেকশন ফুটাননি বলে অস্বীকার করেন। এখনও একই অবস্থায় রয়েছে আমার হাতের।
হাজিডাঙ্গা গ্রামের রাশিদা খাতুন বলেন, আমার হাটুতে জ্বালা যন্ত্রনা করতো। এ কারনে ডাক্তার সুমাইয়ার কাছে গিয়ে ছিলাম। ডাক্তার আমার হাটুতে ইনজেকশন পুস করেন।এরপর আমার সারা শরীর ফুলে পড়ে। পরে আমি অন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছি।
এ ব্যাপারে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গোলাম মাহবুব বলেন,৭০ টাকার ইনজেকশন দিয়ে ৭শ টাকা নেয়া হয়, এটা বাজে কথা। চেম্বারে ইনজেকশন করা হয়। সে ক্ষেত্রে যে যেমন খুশি দেন। আবার অনেক রোগীকে ফ্রিও ইনজেকশন করে দেয়া হয়। 
তিনি বলেন, এর উপর আমার ৬ মাসের ট্রেনিং করা আছে। এটা সময় কাল পাত্র ভেদে বিভিন্ন দাম নেন অনেকে। তিনি আরো বলেন,ঢাকার এক রোগীর উদাহরন দিয়ে বলেন, ওই রোগী ওই একই ইনজেকশন ঢাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় পুস করিয়েছেন। এখানে এসে ইনজেকশন দেয়ার পর, তিনি টাকা চাওয়ার আগেই ১ হাজার টাকা দেন আমাকে। এ ধরনের অনেক রোগীর চিকিৎসা আমি দিয়ে থাকি। তারা ভালও হয়ে যান। এ কারনে আমাদের অনেক রোগীও আছে।
সুমাইয়া আক্তার বলেন,আমাদের হাসপাতালে আল্ট্রাসনো মেশিন নাই। এ কারনে যে সব রোগী আমি দেখি, তাদের আল্ট্রাসনোগুলো আমি করে থাকি।
তিনি বলেন,এর উপর আমার ৬ মাসের ট্রেনিং করা আছে। আপনি দেখতে চাইলে দেখতে পারেন বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এ প্রতিবেদককে।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রশিদ জানান,তারা চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন।তবে সব ধরনের ওষুধ লিখতে পারবেন না। 
এছাড়া ব্যাবস্থাপত্রে ডাক্তার অথবা মেডিকেল অফিসার লিখতে পারবেন না। যদি এর ব্যয় করেন,তাহলে তদন্ত করে,তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave Your Comments